কলকাতা
বেতন পোর্টালে নাম চাকরিহারাদের! তবুও মনে শঙ্কার মেঘ
নিউজ ডেস্ক: গত ৩রা এপ্রিল সুপ্রিমের নির্দেশে চাকরি হারিয়েছেন প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষিকারা। এরপর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় গত ৭ই এপ্রিল নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে বৈঠক করেছিলেন সকল চাকরিহারা শিক্ষক – শিক্ষকদের নিয়ে। তিনি সভা থেকে বলেছিলেন, আপনারা ২মাস ভলান্টিয়ার সার্ভিস দিয়ে যান, এই দু’মাসের মধ্যে বিকল্প ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। যারা যোগ্য তাদের চাকরি যাবেনা।
তবুও মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসের পর মনে শঙ্কার মেঘ জমেছে চাকরিহারাদের! গতকাল রাজ্য জুড়ে ডিআই অফিস অভিযানে সামিল হয়েছিলেন সকল চাকরিহারারা। এরই মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তি পেলেন চাকরিহারারা। চাকরিহারা শিক্ষদের আশঙ্কা দূর করে খুলে গেল স্কুলগুলির বেতন পোর্টাল।
তবে প্রশ্ন উঠছে, সুপ্রিম নির্দেশে চাকরি হারানোর পর বেতন পাবেন তো চাকরি হারা শিক্ষক অশিক্ষক কর্মীরা? পোর্টালে নাম থাকলেই বেতন কি পাবেন তারা? সুপ্রিম নির্দেশে বাতিল হওয়া শিক্ষকদের কাজের আইনি বৈধতা কতটা? সুপ্রিম নির্দেশের পর সরকার কি তাদের বেতন খাতে অর্থ বরাদ্দ করতে পারবে? এই সব প্রশ্নই উঠছে মহলে।
ডিআই অফিস অভিযানের মাঝেই এবার খুলে গেল স্কুলগুলির বেতন পোর্টাল। পোর্টাল থেকে বাদ যায়নি কারও নাম। প্রসঙ্গত, এসএসসি মামলায় ২০১৬-এর পুরো প্যানেল বাতিল করে দিয়েছিলো সুপ্রিম কোর্ট। এর ফলে কারী হারিয়েছেন প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক – শিক্ষিকা ও অশিক্ষক কর্মী। যা নিয়ে তোলপাড় গোটা রাজ্য। চাকরি চলে যাওয়ায় তারা ভেবেছিলেন যে , বিদ্যালয় গুলির বেতন পোর্টাল বন্ধ থাকতে পারে। বেতন পোর্টাল বন্ধ নিয়ে উদ্বিঘ্ন হয়ে পড়েছিলেন সকলে।
আরও পড়ুন – SSC ভবনের সামনে অনশন! জোড়া মামলা দায়ের চাকরিহারাদের বিরুদ্ধে
তবে বেতন পোর্টাল খোলার পর বিদ্যালয় গুলি জানায় গত মাসে যেসকল শিক্ষকদের নাম ছিল, এপ্রিল মাসের বেতন পোর্টালে সেই তালিকা অপরিবর্তিত রয়েছে। বেতন পোর্টালে নাম রয়েছে বাতিল হওয়া প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীর নামও। তবে বেতন পোর্টালে নাম থাকলেও চাকরিহারা শিক্ষক ও শিক্ষিকারা চিন্তামুক্ত হতে পারছেন না বলেই জানিয়েছেন। কারন, আইনি এই প্রশ্ন রয়েই যাচ্ছে বলে মনে করছেন চাকরিহারা শিক্ষকরা।
প্রতি মাসের ১ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে বেতন পোর্টালে শিক্ষকদের বেতন আপডেট করতে হয়। বিদ্যালয় গুলির প্রধান শিক্ষকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বেতন পোর্টালে কোনও শিক্ষকের নাম সংযোজন করা বা বাদ দেওয়ার অধিকার নেই তাদের।
যদি কোনও শিক্ষকের আয়কর বা প্রফিডেন্ট ফান্ডে কিছু পরিবর্তন করার প্রয়োজন হয় তাহলে সেই পরিবর্তনটুকুই লিখতে পারেন প্রধান শিক্ষকরা। তবে ইতিমধ্যেই সকল চাকরিহারাদের বেতন যাতে দেওয়া যায় তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। এমনকি রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুও জানিয়েছেন, গোটা বিষয়টি আইনিভাবে পদক্ষেপ করা হচ্ছে। কিন্তু, তাসত্বেও এখনও আশঙ্কামুক্ত হতে পারছেন না যোগ্য চাকরিহারারা।
আরও পড়ুন – পরীক্ষা দিতে এসে নিখোঁজ ছাত্রী! প্রধান শিক্ষকের ঘরের সামনে ধর্ণা
