কলকাতা
ইডির পর এবার ইনকাম ট্যাক্স! দেবাশিস কুমারের বাড়ি ও অফিসে ম্যারাথন তল্লাশি কেন্দ্রীয় সংস্থার
ডিজিটাল ডেস্কঃ রাজ্যে ভোটযুদ্ধের (West Bengal Assembly Election 2026) আবহে দক্ষিণ কলকাতায় বড়সড় কেন্দ্রীয় তৎপরতা দেখা গেল। রাসবিহারী কেন্দ্রের বিদায়ী বিধায়ক এবং তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী দেবাশিস কুমারের বাড়ি ও অফিসে হানা দিল আয়কর দফতর (Income Tax Department)।
শুক্রবার ভোরবেলা মনোহরপুকুর রোডে অবস্থিত তাঁর বাসভবনে পৌঁছে যান আয়কর আধিকারিকরা। শুরু হয় দীর্ঘ তল্লাশি অভিযান (Search Operation)। একইসঙ্গে তাঁর নির্বাচনী কার্যালয়েও অভিযান চালানো হয়।
সূত্রের খবর, বাড়ি ও অফিস—দুই জায়গাতেই একযোগে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Forces)। বর্তমানে দেবাশিস কুমার বাড়ির ভেতরেই রয়েছেন এবং বাইরে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এই অভিযানের জেরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। তৃণমূল কর্মীরা তাঁর অফিসের বাইরে বিক্ষোভ (Protest) দেখাতে শুরু করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, যথাযথ নথি ছাড়াই এই তল্লাশি চালানো হচ্ছে এবং নির্বাচনী তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এমনকি কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথির ছবি তোলার অভিযোগও উঠেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, দেবাশিস কুমারের নির্বাচনী এজেন্টদের ফাইলও নিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের আরও অভিযোগ, বিএলএ (BLA), এজেন্টদের নাম, তথ্য এবং ফোন নম্বর সংগ্রহ করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এর আগেই এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (Enforcement Directorate) বা ইডি (ED) জমি দখল সংক্রান্ত একটি মামলায় তাঁকে একাধিকবার তলব করেছিল। এপ্রিল মাসের ১, ৩ এবং ৯ তারিখে তাঁকে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে (CGO Complex) হাজিরা দিতে হয়। যদিও জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনি প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি। সূত্রের খবর, মার্চ মাসের শেষদিকে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় একাধিক জায়গায় ইডির তল্লাশি অভিযান (Raid) চালানো হয়েছিল। জমি দখল সংক্রান্ত অভিযোগে ১৬-১৭টি এফআইআর (FIR) দায়ের হওয়ার ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু হয়। সেই সূত্র ধরেই দেবাশিস কুমারকে ডাকা হয়েছিল বলে জানা যায়। এই মামলায় দক্ষিণ কলকাতার কসবা এলাকার ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে ‘সোনা পাপ্পু’র বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর সঙ্গে দেবাশিস কুমারের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল।
নির্বাচনী আবহে এই কেন্দ্রীয় অভিযান ঘিরে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠেছে। তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা (Political Vendetta) বলে অভিযোগ তুলেছে। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের দাবি, এটি দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্বাভাবিক তদন্ত প্রক্রিয়া। এর আগেই দেবাশিস কুমার জানিয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তে তাঁর নির্বাচনী প্রচারে কোনও প্রভাব পড়বে না। এখন দেখার, এই তল্লাশি অভিযানের পর কী তথ্য সামনে আসে।


