আবহাওয়া
আবহাওয়ায় অস্বস্তি, রাজ্যের অধিকাংশ জেলাতেই বৃষ্টির তীব্র ঘাটতি
ডিজিটাল ডেস্কঃ গত এক মাসে পশ্চিমবঙ্গে গড় বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় অন্তত ৪৪ শতাংশ কম হয়েছে। রাজ্যের বহু জেলাতে এক ফোঁটা বৃষ্টিও পড়েনি বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। যদিও আগামী সপ্তাহে দক্ষিণবঙ্গ এবং উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় কালবৈশাখীর পূর্বাভাস রয়েছে। তবে আবহাওয়াবিদদের মতে, স্বস্তি সাময়িক হলেও বৃষ্টির ঘাটতি মেটার সম্ভাবনা এখনই নেই।
আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ দিনাজপুরে গত এক মাসে বৃষ্টির ঘাটতি ১০০ শতাংশ। মালদহেও প্রায় ৯৮ শতাংশ বৃষ্টি কম হয়েছে। কলকাতাতেও স্বাভাবিকের তুলনায় ৮৭ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। হুগলিতে এই ঘাটতির পরিমাণ ৯০ শতাংশ, উত্তর ২৪ পরগনায় ৮০ শতাংশ, হাওড়ায় ৬০ শতাংশ, নদিয়ায় ৭৫ শতাংশ এবং জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে ঘাটতি ৭৫ থেকে ৯০ শতাংশের মধ্যে।
একমাত্র পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার থেকে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ঝড়বৃষ্টি হতে পারে। কলকাতায় বিক্ষিপ্ত হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সঙ্গে হতে পারে বজ্রপাতও। ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে বলেও জানানো হয়েছে। একই রকম পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, ঝাড়গ্রাম ও পুরুলিয়াতেও। মঙ্গলবারেও ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে বলে জানাচ্ছে হাওয়া অফিস।
উত্তরবঙ্গেও রবিবার থেকে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার এবং মালদহে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৫০ কিমি বেগে ঝড় বইতে পারে বলে জানানো হয়েছে। শনিবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ১.৬ ডিগ্রি বেশি। তবে শুক্রবার সারা দিন আকাশ মেঘলা থাকার কারণে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমে ৩৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে দাঁড়ায়। চৈত্র মাস থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় তাপপ্রবাহ শুরু হয়ে গিয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, গ্রীষ্ম যত এগোবে, উত্তাপ ততই বাড়বে। তাই স্বস্তি পেতে হলে ঝড়বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়তে হবে।
