ভাইরাল খবর
তৃণমূলের পরিষদীয় দলে বড় বদল! স্পিকারের স্বীকৃতিতে বিরোধী দলনেতা হলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
ডিজিটাল ডেস্কঃ সমস্ত জল্পনায় আনুষ্ঠানিক সিলমোহর পড়ল। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার (Assembly) অন্দরে চরম নাটকীয়তার মধ্যে শক্তি পরীক্ষায় সগৌরবে পাস করলেন তৃণমূলের ‘বহিষ্কৃত’ নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee)। বুধবার বিধানসভার স্পিকার (Speaker) রথীন্দ্রনাথ বসু বিদ্রোহী বিধায়কদের সই করা চিঠিকে আইনি স্বীকৃতি দিয়েছেন। এর ফলে তৃণমূলের পরিষদীয় দলের ‘আসল মালিকানা’ ও বিরোধী দলনেতার (Leader of Opposition) মর্যাদা পেলেন ঋতব্রত এবং তাঁর সঙ্গী বিধায়করা। বিধানসভার সচিব সৌমেন্দ্রনাথ দাস ইতিমধ্যেই নতুন বিরোধী দলনেতার ঘরের চাবি ঋতব্রতের হাতে তুলে দিয়েছেন।
দলীয় নিয়ম অনুযায়ী, বিধানসভায় ‘আসল তৃণমূল’-এর স্বীকৃতি পেতে মোট জেতা আসনের দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ অন্তত ৫২ জন বিধায়কের সম্মতির প্রয়োজন ছিল। ঋতব্রতরা ৫৮ জন বিধায়কের সই সম্বলিত চিঠি স্পিকারের কাছে পেশ করেন, যার সিংহভাগ বিধায়কই সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। স্বীকৃতি পাওয়ার পর সাংবাদিক বৈঠকে (Press Conference) ঋতব্রত বলেন, “অষ্টাদশ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার তৃণমূলের যে পরিষদীয় দল, তাতে আর কোনও একনায়ক নেই। এটা পুরোটা একটা টিম (Team)। আজ থেকে দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক বিরোধী দল হিসেবে আমাদের যাত্রা শুরু।” তিনি আরও জানান, এই মুহূর্তে তাঁদের সঙ্গে ৫৮ জন থাকলেও আরও ২ জন বিধায়ক যোগ দেবেন, ফলে সংখ্যাটা ৬০ হবে। নতুন এই কাঠামোয় মুখ্য সচেতক বা চিফ হুইপ (Chief Whip) হচ্ছেন আখরুজ্জামান এবং উপ-দলনেতা হয়েছেন জাভেদ খান, সাবিনা ইয়াসমিন, শিউলি সাহা ও সন্দীপন সাহা।
ঋতব্রত স্পষ্ট করেছেন যে, তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) ‘প্রধান পরামর্শদাতা’ হিসেবে চান এবং শুধু বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা না করে সরকারের সদর্থক ভূমিকার প্রশংসাও করবেন। তবে বিধানসভায় পরিষদীয় দলের রাশ ঋতব্রতদের হাতে গেলেও, সার্বিকভাবে দলের নাম, জোড়াফুল প্রতীক (Symbol) এবং সম্পত্তি ব্যবহারের অধিকার পেতে হলে বিষয়টি ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ECI) দরবারে যাবে। কমিশন সমস্ত বিধায়ক, সাংসদ ও পদাধিকারীদের মতামতের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
