উত্তর দিনাজপুর
কে এই বিরাজ বিশ্বাস? মাত্র ৩২ বছরে রাজ্যের কনিষ্ঠতম মন্ত্রী হয়ে গড়লেন নজির
ডিজিটাল ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি (BJP) বা ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণে (Cabinet expansion) এই মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন উত্তর দিনাজপুরের করণদিঘির নবনির্বাচিত বিধায়ক বিরাজ বিশ্বাস। বয়স মাত্র ৩২ বছর! এই তরুণ বয়সেই শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রী (Minister of State) হিসেবে শপথ নিয়ে এক অনন্য নজির (Record) গড়লেন তিনি। সোমবার লোকভবনে রাজ্যপাল আরএন রবির উপস্থিতিতে আরও ৩৪ জন মন্ত্রীর সাথে শপথ নেন পেশায় কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী বিরাজ। তিনি বর্তমান বিধানসভার ২০৭ জন বিজেপি বিধায়কদের মধ্যে কনিষ্ঠতম (Youngest)।
বিনয় বিশ্বাসের পুত্র বিরাজের এই রাজনৈতিক উত্থান কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘ ছাত্র আন্দোলন ও তীব্র লড়াইয়ের ফসল। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ জলপাইগুড়ি আইন কলেজ থেকে ২০১৯ সালে বি.এ.-এলএল.বি (BA LLB) ডিগ্রি অর্জনকারী বিরাজ ছাত্রাবস্থা থেকেই রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) ভাবধারায় দীক্ষিত। পরবর্তীতে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (ABVP) রাজ্য সম্পাদক ও সর্বভারতীয় সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব (Organizational responsibility) সামলেছেন অত্যন্ত দক্ষতার সাথে। দাড়িভিটে উর্দু চাপানোর বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা তীব্র ছাত্র আন্দোলন এবং উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের শাসকবিরোধী আন্দোলনের সামনের সারিতে ছিলেন তিনি। এই আন্দোলনের জেরে তৃণমূল জমানায় শিলিগুড়ি থেকে লালবাজার—একাধিক জেলে বন্দি (Imprisoned) থাকতে হয়েছে এই তরুণ তুর্কিকে, মুখোমুখি হতে হয়েছে বহু মামলার।
আইনজীবী হিসেবেও তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয়। ডালখোলার রামনবমীর হিংসা এবং প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক গৌতম পালের স্ত্রী তথা জেলা পরিষদের সভাধিপতি পম্পা পালের জাল এসসি সার্টিফিকেট (Fake SC Certificate) বাতিলের দাবিতে আইনি লড়াই লড়েছেন তিনি। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে করণদিঘি কেন্দ্রে সেই হেভিওয়েট গৌতম পালকেই ১৯,৮৬৯ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে প্রথমবার বিধায়ক হন বিরাজ। তাঁর এই অভাবনীয় নির্বাচনী সাফল্য (Electoral success) ও মন্ত্রিত্ব প্রাপ্তিতে করণদিঘি ও ডালখোলা জুড়ে শুরু হয়েছে উৎসবের আমেজ। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিরাজকে মন্ত্রিসভায় এনে উত্তরবঙ্গে যেমন বড় বার্তা দেওয়া হলো, তেমনই তরুণ ও শিক্ষিত নেতৃত্বকে সামনে আনার ব্যাপারেও স্পষ্ট ইঙ্গিত দিল নতুন সরকার।

