বিনোদন
টলিউডে দুর্নীতি দমনে ‘ডি কিউব’ ফর্মুলা! টলিপাড়ায় কর্মসংস্কৃতি বদলের ঘোষণা পাপিয়ার
ডিজিটাল ডেস্কঃ দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে টলিপাড়ার (Tollywood) স্টুডিওপাড়ায় চলা একাধিপত্য ও ক্ষমতার দাপট শেষ করে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ঘোষণা করলেন টালিগঞ্জের নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী (Papiya Adhikari)। বুধবার টেকনিশিয়ান স্টুডিও চত্বরে এক গুরুত্বপূর্ণ সভার পর তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ‘ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ান্স অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া’-র আর কোনো অস্তিত্ব রইল না। ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর জমানার অবসান ঘটিয়ে ফেডারেশন এবং এর আওতাধীন ২৬টি গিল্ডকে (Guilds) সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করা হয়েছে। এর পরিবর্তে টলিউডকে ‘ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স কনফেডারেশন’ (EIMPCC)-এর অধীনে আনা হয়েছে, যার চালিকাশক্তির ব্যাটন উঠেছে স্বয়ং পাপিয়া অধিকারীর হাতে।
সাংবাদিক বৈঠকে নিজেকে ‘মোদির সেনাপতি’ বলে পরিচয় দিয়ে অভিনেত্রী-বিধায়ক জানান, ইন্ডাস্ট্রিতে দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলাই তাঁদের লক্ষ্য। এখন থেকে ২৬টি পকেট গিল্ডের দৌরাত্ম্য কমিয়ে মাত্র ৪টি প্রধান বিভাগ (সিনেম্যাটোগ্রাফি, পরিচালক, প্রোডাকশন কন্ট্রোলার এবং আর্ট ও কস্টিউম) থাকবে। টলিপাড়ার দীর্ঘদিনের কুখ্যাত ‘ব্যান কালচার’ (Ban Culture) বা নিষিদ্ধ করার সংস্কৃতি চিরতরে মুছে ফেলা হবে। শুটিং ইউনিটে কতজন কর্মী লাগবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবেন একমাত্র প্রযোজক (Producer) এবং পরিচালকেরাই হবেন ছবির প্রকৃত ‘ক্যাপ্টেন অফ দ্য শিপ’।
ইন্ডাস্ট্রির রন্ধ্রে রন্ধ্রে থাকা দুর্নীতি উপড়ে ফেলতে পাপিয়াদেবী ‘ডি কিউব’ (D-Cube – ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট) ফর্মুলা এবং ‘এসআইআর’ (SIR) বা স্ক্রিনিং প্রক্রিয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যাঁরা এতদিন ধরে ক্ষমতার আস্ফালনে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে শোষণ করেছেন, অযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও টাকার জোরে ঢুকেছেন, এমনকি সহকর্মীদের আত্মহত্যায় প্ররোচনা দিয়েছেন, তাঁরা নিজেরাই টলিউড থেকে সরে যান। এখানে আপনাদের আর জায়গা হবে না।” এই নতুন মূল্যায়ন বা স্ক্রিনিং (Screening) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শুধুমাত্র যোগ্যতার ভিত্তিতেই কাজ মিলবে। পাশাপাশি কলাকুশলীদের জন্য নির্দিষ্ট ৮ ঘণ্টার কাজের সময়সীমা ও স্বাস্থ্য বীমা (Health Insurance) সুনিশ্চিত করার অঙ্গীকাও করেছেন তিনি।
