চাকরি বাণিজ্যের কালো ছায়া—৭৮ কোটি টাকার দুর্নীতি ফাঁস
Connect with us

চাকরি

চাকরি বাণিজ্যের কালো ছায়া—৭৮ কোটি টাকার দুর্নীতি ফাঁস

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ চাকরি পাওয়ার জন্য পরীক্ষা দিতে হয়েছে ঠিকই, কিন্তু প্রশ্নের উত্তর লেখার দরকার হয়নি! কারণ পরীক্ষার হলে বসে সাদা খাতা জমা দেওয়ার নির্দেশই দেওয়া হয়েছিল চাকরিপ্রার্থীদের। আর তাতেই তাঁরা অনায়াসে পাশ করেছেন। শর্ত একটাই—পরীক্ষার পর মোটা অঙ্কের ঘুষ দিতে হবে। সিবিআইয়ের সাম্প্রতিক চার্জশিটে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য।

প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, চাকরির বিনিময়ে টাকা লেনদেনের মূল হোতা ছিলেন অরুণ কুমার হাজরা ওরফে চিনু হাজরা এবং সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র ওরফে ‘ কালীঘাটের কাকু’। তাঁদের হয়ে ঘুষ সংগ্রহের কাজ করতেন একাধিক এজেন্ট, যাঁদের কাছ থেকে পাওয়া গিয়েছে ১০টি ডায়েরি। সেখানে লেখা রয়েছে কাদের কাছ থেকে কত টাকা নেওয়া হয়েছে, এবং সেই টাকা কীভাবে উপরের মহলে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃদু’মিনিট সময় লাগে! যাদবপুর কান্ড নিয়ে মুখ খুললেন রাজ চক্রবর্তী

তদন্তকারীদের দাবি, চাকরিপ্রার্থীদের সাদা খাতা জমা দিতে বলা হয়েছিল, কারণ পরীক্ষার ফল আগেই ঠিক করে দেওয়া হয়েছিল। পরীক্ষায় পাশ করিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে প্রত্যেক প্রার্থীর কাছ থেকে ৫-৮ লক্ষ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই টাকা দিয়েও চাকরি মেলেনি, আর তখনই চাকরিপ্রার্থী ও এজেন্টদের মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়। ঘুষের টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হয়ে ৩৭ কাঠার জমিও বিক্রি করেছিলেন অভিযুক্তরা!

Advertisement
ads

সিবিআইয়ের চার্জশিট অনুযায়ী, এই পুরো দুর্নীতি একটি সুপরিকল্পিত চক্রের মাধ্যমে চালানো হয়েছে, যেখানে রাজনৈতিক যোগেরও ইঙ্গিত মিলেছে। তদন্তকারীদের দাবি, এই চক্রের মাথায় ছিলেন প্রভাবশালী কয়েকজন নেতা ও প্রশাসনিক কর্তা। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম নিয়েও জলঘোলা হয়েছে, যদিও তিনি এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, সিবিআই রাজনৈতিক স্বার্থে তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে।

আরও পড়ুনঃজঙ্গলে ট্রেনের হুইসল শুনে চমকে উঠলো হাতি! পেছোতেই মৃত্যু বনকর্মীর

তদন্তে উঠে এসেছে, ইডি ও সিবিআই যখন নিয়োগ দুর্নীতির মূল চক্রী কুন্তল ঘোষকে গ্রেফতার করল, তখন সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র ওরফে ‘কালীঘাটের কাকু’ বারবার হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করেন এজেন্ট শেখ আব্দুল সালামের সঙ্গে। উদ্দেশ্য ছিল, যাবতীয় ডিজিটাল প্রমাণ নষ্ট করা।

“সুজয়কৃষ্ণ নিজেই স্বীকার করেন, তিনি নিজের দুইটি মোবাইল ফোন আদিগঙ্গায় ফেলে দিয়েছেন। সমস্ত ইমেল ও ডিজিটাল নথি মুছে ফেলার নির্দেশ দেন সালামকে। সালাম তাঁর নির্দেশে কিছু ছবি, ভিডিও এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি মুছে ফেলেন। ২০২৪ সালের অগস্টে অরুণ হাজরাও পরামর্শ দেন, ফোন বন্ধ করে গা ঢাকা দিতে।” এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট, নিয়োগ দুর্নীতিতে অভিযুক্তরা তদন্তের আঁচ টের পেয়েই তথ্য লোপাটের চেষ্টা করছিলেন। তবে তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি হাতে পেয়েছেন, যা থেকে বেরিয়ে আসতে পারে আরও বিস্ফোরক তথ্য।

Advertisement
ads