চাকরি
নিয়োগ দুর্নীতিতে প্রমাণ লোপাটের ছক! সিবিআই চার্জশিটে চাঞ্চল্যকর তথ্য
ডিজিটাল ডেস্কঃ নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় একাধিক তথ্যপ্রমাণ নষ্টের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে, যা সিবিআই তাদের আদালতে জমা দেওয়া তৃতীয় অতিরিক্ত চার্জশিটে উল্লেখ করেছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, মামলার অন্যতম অভিযুক্ত সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র ওরফে ‘কালীঘাটের কাকু’ কখনও নিজে, কখনও বা অন্যদের বাধ্য করে প্রমাণ লোপাট করেছেন। শুধু তিনি নন, মামলার অন্যান্য অভিযুক্তরাও বিভিন্ন উপায়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ধ্বংস করার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ।
সিবিআই চার্জশিটে জানিয়েছে, নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতরা সাতটি প্রধান উপায়ে তথ্যপ্রমাণ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে। তদন্ত চলাকালীন একাধিক সাক্ষীর বয়ানে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
আরও পড়ুনঃ নৈশ ক্লাবে আতশবাজি থেকে অগ্নিকাণ্ড, প্রাণ হারালেন বহু তরুণ-তরুণী
ঘুষের লেনদেনের ভিডিয়ো মুছে ফেলা
এক সাক্ষীর বয়ান অনুযায়ী, তিনি একবার সুজয়কৃষ্ণের উপস্থিতিতে ঘুষ লেনদেনের ভিডিয়ো রেকর্ড করেছিলেন। কিন্তু পরে সুজয়কৃষ্ণ তাঁকে ফোন করে সেই ভিডিয়ো মুছে ফেলতে অনুরোধ করেন। ভয় পেয়ে সাক্ষী নিজের মোবাইল থেকে সেটি সরিয়ে দেন।
মোবাইল ফোন নষ্ট করা
অভিযোগ, সুজয়কৃষ্ণ এক সাক্ষীর কাছ থেকে তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে নর্দমার জলে ফেলে দেন, যাতে কোনো তথ্য থেকে না যায়। এমনকি নিজেও তাঁর দুটি মোবাইল ফোন আদিগঙ্গার জলে ফেলে দেন।
ইমেল ও ডিজিটাল নথি মুছে ফেলা
নিয়োগ দুর্নীতির সমস্ত নির্দেশাবলি ইমেলের মাধ্যমে পাঠানো হত। সুজয়কৃষ্ণ নিজের ইমেল অ্যাকাউন্ট সম্পূর্ণভাবে মুছে ফেলেন এবং অন্যদেরও তা করতে বাধ্য করেন। পরে সিবিআই তদন্তে জানতে পারে, যাঁদের কাছে তিনি ইমেল পাঠিয়েছিলেন, তাঁদের কাছ থেকে কিছু তথ্য পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
চাকরিপ্রার্থীদের তালিকা ল্যাপটপ থেকে মুছে ফেলা
এক সাক্ষী জানিয়েছেন, তাঁর মামার নির্দেশে তিনি দুই হাজারেরও বেশি চাকরিপ্রার্থীর নামের তালিকা ল্যাপটপে তৈরি করেছিলেন। পরে ল্যাপটপ ‘ক্র্যাশ’ হয় এবং সব তথ্য মুছে যায়।
আরও পড়ুনঃফের মালদায় চললো গুলি! মাছ ব্যবসায়ীকে খুনের চেষ্টার অভিযোগ
সিসিটিভি ফুটেজ ধ্বংস করা
লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস সংস্থার দফতরে সুজয়কৃষ্ণের কাছে যারা ঘুষের টাকা নিয়ে যেত, তাদের তথ্য গোপন রাখতে সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ রাখা হতো। এক মহিলা কর্মী সিবিআইকে জানিয়েছেন, সুজয়কৃষ্ণ নিজেই সিসিটিভি বন্ধ করার নির্দেশ দিতেন।
খাতা-কলমের হিসাব ধ্বংস
এক এজেন্ট স্বীকার করেছেন, তিনি ঘুষ লেনদেনের হিসাব একাধিক ডায়েরিতে লিখে রাখতেন। কিন্তু সুজয়কৃষ্ণের নির্দেশে সেসব ডায়েরি পুড়িয়ে ফেলা হয়। যদিও অন্য কিছু এজেন্টের কাছ থেকে এমন ১০টি ডায়েরি উদ্ধার করেছে সিবিআই, যেখানে টাকা লেনদেনের হিসাব সংরক্ষিত রয়েছে।
প্রমাণ ফাঁসের হুমকি দিলে প্রতিক্রিয়া
এক সাক্ষী জানিয়েছেন, তিনি একবার সুজয়কৃষ্ণের বিরুদ্ধে মোবাইল ভিডিয়ো দেখিয়ে হুমকি দিয়েছিলেন। তখন সুজয়কৃষ্ণ উল্টো তাঁকে ভয় দেখান এবং তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ধ্বংস করেন।
সিবিআই চার্জশিটে জানিয়েছে, প্রাথমিক, উচ্চ প্রাথমিক, এসএসসি, গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি— সব স্তরের নিয়োগেই ঘুষের বিনিময়ে চাকরি দেওয়া হয়েছে। বহু প্রার্থী টাকা দিয়েও চাকরি পাননি, কিন্তু তাঁদের টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি। এই দুর্নীতির মূল কারিগর সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র, তাঁর হয়ে টাকা সংগ্রহ করতেন কুন্তল ঘোষ, শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় ও অরুণ হাজরা-র মতো অভিযুক্তরা। সিবিআইয়ের এই চার্জশিট নিয়োগ দুর্নীতির গভীর ষড়যন্ত্রের দিক তুলে ধরেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সে দিকেই এখন নজর সকলের।
