স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া দাপট থামেনি শনিবার ভোর পর্যন্ত। হাথিয়া গ্রাম দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত নকল কয়েন তৈরির ঘাঁটি হিসেবে। সেখানেই মূলত ক্ষমতা দখলের লড়াই চলছে শেখ মইনুদ্দিন (Sheikh Moinuddin), শেখ মুস্তাফি (Sheikh Mustafi) এবং অপর গোষ্ঠীর শেখ মনিরের (Sheikh Monir) মধ্যে। কয়েক মাস পলাতক থাকার পর শুক্রবার সন্ধেয় শেখ মইনুদ্দিন ও শেখ মুস্তাফি ফের গ্রামে প্রবেশের চেষ্টা করেন। কিন্তু শেখ মনিরের অনুগামীরা বাধা দেয়। তাতেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। রাতভর চলে দফায় দফায় বোমাবাজি ও সংঘর্ষ।
আরও পড়ুনঃ মুসলিম দোকানে তৈরি হচ্ছে জগন্নাথের প্রসাদ! মমতার বিরুদ্ধে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ শুভেন্দুর
পুলিশ সূত্রের খবর, শনিবার ভোরে ফের গ্রামে ঢোকার চেষ্টা করেন মইনুদ্দিন ও মুস্তাফি। অভিযোগ, তখন শেখ মনিরের লোকজন গ্রামের ছাতিম পুকুরের কাছে বসে বোমা তৈরি করছিল। সেই সময় আচমকা একটি বোমা ফেটে যায়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দুই যুবকের। মৃতদের মধ্যে একজন স্থানীয় বাসিন্দা রেজাউল খানের ভাগ্নে এবং অন্যজন তৃণমূল (TMC) নেতা শেখ বাদল (Sheikh Badal)-এর ছেলে বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনায় আহত আরও কয়েকজনকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জেলা পুলিশের (Birbhum Police) তরফে জানানো হয়েছে, গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, এই হাথিয়া গ্রাম আগেও কুখ্যাত ছিল। গত বছর মার্চ মাসেও নকল অস্ত্র কারখানার সন্ধান মেলে এই গ্রামে। সেই সময় পুলিশ অভিযান চালাতে গেলে তাদের উপর হামলা চলে, ভাঙচুর হয় পুলিশের গাড়ি। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়েছিল যে পুলিশকে শূন্যে গুলি চালাতে হয়।
তবে সেই ঘটনার পরেও যে এলাকায় শান্তি ফেরেনি, এবারের বোমা বিস্ফোরণই তার প্রমাণ। স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কে রয়েছেন, আবারও সংঘর্ষ ছড়ানোর আশঙ্কা করছেন। জেলা প্রশাসনের তরফে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।