রাজনীতি
তৃণমূল নেতার খুনের মামলার সাক্ষীর পচাগলা দেহ উদ্ধার, উঠছে খুনের অভিযোগ
ডিজিটাল ডেস্কঃ নৈহাটি উপনির্বাচনের সময় প্রকাশ্যে খুনের ঘটনায় নতুন মোড়। ওই মামলার এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর পচাগলা দেহ উদ্ধার ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল ভাটপাড়ায় (Bhatpara)। শনিবার দুপুরে জগদ্দল থানা (Jagaddal Police Station) এলাকার পালঘাট রোডের নিকাশি নালা থেকে উদ্ধার হয়েছে তৃণমূল নেতা অশোক সাউয়ের (Ashok Sau) মামলার সাক্ষী দিলীপ সাউয়ের (Dilip Sau) মৃতদেহ। তাঁর মৃত্যু কীভাবে হল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই উঠতে শুরু করেছে একাধিক প্রশ্ন। পুলিশের তরফে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দিন তিনেক ধরে নিখোঁজ ছিলেন দিলীপ। এ বিষয়ে থানায় নিখোঁজ ডায়েরিও (Missing Diary) হয়েছিল। অবশেষে শনিবার নিকাশি নালা থেকে দুর্গন্ধ বেরোতে দেখে খোঁজ করতে গিয়ে দেখা যায়, কালভার্টের নিচে পচাগলা একটি দেহ। খবর পেয়ে পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে এবং তা দিলীপ সাউয়ের বলে শনাক্ত হয়। ঘটনার খবর ছড়াতেই এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে তীব্র উত্তেজনা। প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। অবরোধ হয় ঘোষপাড়া রোড। পরে সেখানে বিজেপি (BJP) কর্মীরাও যোগ দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অবশেষে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আরও পড়ুনঃ ইরান-গাজা নিয়ে নীরবতা! মোদি সরকারের নীতিকে তীব্র আক্রমণ সোনিয়া গান্ধির
বিজেপি নেতা প্রিয়াঙ্কু পাণ্ডে (Priyanku Pandey) বলেন, “অশোক সাউয়ের খুনের ঘটনায় তাঁর ভাই প্রদীপ সাউ এনআইএ তদন্তের জন্য মামলা করেছিলেন। হয়তো আগামী সপ্তাহেই এনআইএ (NIA) তদন্তের অনুমতি পেয়ে যেতে পারে। এই পরিস্থিতিতে মামলার সাক্ষী দিলীপের দেহ উদ্ধার যথেষ্ট সন্দেহজনক। তিনদিন নিখোঁজ থাকার পর নর্দমায় দেহ পাওয়া গেল, অথচ থানায় ডায়েরিও হয়েছিল। যদি সত্যিই সে দুর্ঘটনায় পড়ে গিয়ে মারা যেত, তাহলে কালভার্টের নিচে গড়িয়ে যাওয়ার কথা নয়। আমরা চাই পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হোক।”
এ প্রসঙ্গে তৃণমূল (TMC) নেতা তথা ভাটপাড়া পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান দেবজ্যোতি ঘোষ (Debjyoti Ghosh) বলেন, “আমরা ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছি। ওটা না পাওয়া পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করা ঠিক হবে না। আমরাও চাই সত্য উদঘাটিত হোক। পুলিশি তদন্তই এই প্রশ্নের উত্তর দেবে।”
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিকভাবে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করা হলেও সমস্ত সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এলাকার মানুষজন ও দিলীপের পরিবার এই মৃত্যুতে খুনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশ ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
