দেশের খবর
ইরানে যুদ্ধের মাঝে দ্রুত উদ্ধার অভিযান, পড়ুয়াদের দেশে ফেরাল নয়াদিল্লি
ডিজিটাল ডেস্কঃ অপারেশন সিন্ধু (Operation Sindhu) সফল। দু’দিনের মধ্যে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরান (Iran) থেকে দেশে ফিরলেন শতাধিক ভারতীয় নাগরিক। শনিবার সকালে শতাধিক ভারতীয়কে নিয়ে দিল্লি বিমানবন্দরে (Delhi Airport) অবতরণ করেছে এয়ার ইন্ডিয়ার (Air India) বিশেষ বিমান। বিমানে নামতেই ‘ভারত মাতা কি জয়’ (Bharat Mata Ki Jai) স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে বিমানবন্দর। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আটকে পড়া ভারতীয়দের মুখে তখন শুধুই স্বস্তি, কৃতজ্ঞতা আর ফিরে আসার আনন্দ।
ইরান-ইজরায়েল (Iran-Israel) যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে গত কয়েকদিন ধরেই সেখানে বিপাকে পড়েছিলেন শতাধিক ভারতীয় পড়ুয়া ও তীর্থযাত্রী। যুদ্ধের কারণে ইরান নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছিল, ফলে ভারতীয়দের দেশে ফেরানো হয়ে দাঁড়িয়েছিল বড় চ্যালেঞ্জ। তবে ভারতের বিশেষ কূটনৈতিক উদ্যোগে শুধুমাত্র ভারতীয়দের জন্য আকাশসীমা খুলে দেয় ইরান। এই সুযোগেই ‘অপারেশন সিন্ধু’ শুরু করে ভারত সরকার।
আরও পড়ুনঃ বোমা বাঁধতে গিয়ে তৃণমূল নেতার ছেলের মৃত্যু! দলীয় সন্ত্রাসে ফাটল, গ্রাম দখলের খেলায় রক্তাক্ত
গত বুধবার ‘অপারেশন সিন্ধু’র (Operation Sindhu) সূচনা করে নয়াদিল্লি (New Delhi)। প্রথম পর্যায়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরান থেকে ১১০ জন ভারতীয় পড়ুয়াকে উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার রাত ১১টা নাগাদ প্রথম উদ্ধারকারী বিমান দিল্লিতে এসে পৌঁছয়, ওই বিমানে ছিলেন প্রায় ২৯০ জন ভারতীয় নাগরিক। শনিবার সকালে দ্বিতীয় বিমানে আরও শতাধিক ভারতীয় দেশে ফিরে আসেন। দিল্লি থেকে রাজ্য সরকারগুলির সহযোগিতায় প্রত্যেককে নিজ নিজ রাজ্যে ফেরানোর ব্যবস্থা চলছে।
আজ সন্ধ্যায় আরও একটি বিমান ভারতে আসার কথা। সব মিলিয়ে প্রায় হাজার খানেক ভারতীয় আটকে ছিলেন ইরানে। কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রক (MEA) সূত্রের খবর, আগামী এক-দু’দিনের মধ্যেই অধিকাংশ ভারতীয় দেশে ফিরতে পারবেন।
উদ্ধার হওয়া ভারতীয়রা বিমানবন্দরে নেমেই জাতীয় পতাকা হাতে ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান দেন। তাঁরা কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিদেশ মন্ত্রককে দ্রুত উদ্ধারের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যে আটকে পড়েও দ্রুত উদ্ধার হওয়ায় অনেকেই চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি।
ভারত সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, বাকি ভারতীয়দেরও দ্রুত ফেরানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ‘অপারেশন সিন্ধু’ ভারতের আরেকটি সফল উদ্ধার অভিযানের নজির হয়ে থাকল।
