আন্দোলনে বঞ্চিত শিক্ষকেরা, খাদ্য ও চিকিৎসা নিয়ে এগিয়ে এলেন সাধারণ মানুষ
Connect with us

স্বাস্থ্য

আন্দোলনে বঞ্চিত শিক্ষকেরা, খাদ্য ও চিকিৎসা নিয়ে এগিয়ে এলেন সাধারণ মানুষ

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল দেস্কঃ  আবারও শহরের রাস্তায় বিক্ষোভের দৃশ্য। এ বার মঞ্চ সল্টলেকের এসএসসি ভবনের সামনে। চাকরিহারা শিক্ষকদের টানা আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনেও মানবিকতার নজির রাখলেন সাধারণ মানুষ। একদিকে সরকারি উদাসীনতা, অন্যদিকে নাগরিক সমাজের পাশে দাঁড়ানোর অনমনীয়তা—এই বিপরীত চিত্রেই ফুটে উঠল কলকাতার আসল রূপ।

সোমবার রাতভর খোলা আকাশের নিচে অবস্থান চলেছে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। পানীয় জল, শৌচালয়ের মতো ন্যূনতম সুবিধাও মেলেনি। আশপাশে বহু বহুতল ফ্ল্যাট, কিন্তু অধিকাংশ দরজা ছিল বন্ধই। তবে এখানেই ঘটল পরিবর্তনের শুরু। মঙ্গলবার সকাল থেকেই একে একে এগিয়ে এলেন ছাত্রছাত্রী, প্রাক্তন সহকর্মী ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরর্স ফ্রন্টের তরফে আয়োজিত হয় অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্প। জুনিয়র চিকিৎসক অনিকেত মাহাতো জানালেন, “রাতের কষ্ট আর ক্লান্তির কারণে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাই জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার জন্য আমরা এখানে এসেছি।”

আরও পড়ুনঃ কলম ধরলেন শুভেন্দু! SSC কর্তাদের নিয়ে লিখলেন পদ্য

শুধু ওষুধ নয়, সঙ্গে ছিল শুকনো খাবার, মিনারেল ওয়াটারের বোতল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল ছাত্রছাত্রী সকালের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই হাজির হন জলের বোতল ও খাবার নিয়ে। ঐন্দ্রিলা চৌধুরী নামের এক ছাত্রী বলেন, “এই শিক্ষকরা আমাদের ভবিষ্যৎ গড়ার কারিগর। তাঁদের এই অবস্থান নিছক চাকরির দাবির আন্দোলন নয়, এটা ন্যায়বিচারের লড়াই।” দুপুর নাগাদ কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রছাত্রীদের এক দল পৌঁছান খিচুড়ি নিয়ে। এদিকে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার জন্য শহরের বাইরের শিক্ষক-শিক্ষিকারাও এসেছেন নিজ নিজ স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে। কেউ নিয়ে এসেছেন বিস্কুট, কেউ কেক, কেউ আবার নিজের স্কুলের সহকর্মীদের পাশে দাঁড়াতে হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।

Advertisement
ads

মালদার এক স্কুলের প্রধান শিক্ষক অমিয় চৌধুরী বলেন, “আমার স্কুলের তিনজন শিক্ষক এই আন্দোলনে আছেন। ওঁরা রাতভর ঠিক মতো কিছু খেতে পর্যন্ত পাননি।” আন্দোলনকারীদের শৌচালয় সমস্যার খবর পেতেই বিকেলে এসএসসি অফিসের সামনে পৌঁছন বিজেপি নেতা সজল ঘোষ, সঙ্গে দুটি বায়ো টয়লেট। তাঁর কথায়, “এটা মানবিকতার প্রশ্ন, রাজনীতির নয়।”

এসএসসি ভবনের আশপাশের বাসিন্দারাও এবার পাশে দাঁড়িয়েছেন। ইই ব্লকের অভিষেক চক্রবর্তী সামাজিক মাধ্যমে বার্তা দিয়ে জানান, আন্দোলনকারীদের প্রয়োজন পড়লে তিনি ঘর খুলে দিতে প্রস্তুত। ডিএল ব্লকের বাসিন্দা মালতী চৌধুরী নিজের বাড়ির শৌচালয় খুলে দেন আন্দোলনকারীদের জন্য। তাঁর বক্তব্য, “যাঁরা এখানে লড়ছেন, তাঁরা আমার মেয়ের বয়সি। ওদের পাশে দাঁড়ানো আমার দায়িত্ব।”

এই সহানুভূতির আবহেই আউশগ্রামের শিক্ষিকা বিদীপ্তা চৌধুরীর মন্তব্য, “এই মানুষগুলোর পাশে থাকাটা আমাদের লড়াইকে শুধু শক্তি দেয় না, মানসিক সাহসও জোগায়।”

Advertisement
ads