শিক্ষা
প্রাইভেট টিউশন নয়, ক্লাসেই মনোযোগ দিন: প্রাথমিক শিক্ষকদের কড়া নির্দেশ জেলা পরিদর্শকের
ডিজিটাল ডেস্কঃ স্কুলের সময় শেষ হলেও এবার আর শিক্ষার্থীদের বাড়িতে গিয়ে পড়ানো যাবে না—এমনই কঠোর বার্তা দিল উত্তর দিনাজপুর জেলা শিক্ষা দপ্তর। মঙ্গলবার এক প্রশাসনিক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, জেলার কোনও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বা শিক্ষিকা বিদ্যালয়ের পাঠদানের বাইরে আর কোনও প্রকার প্রাইভেট টিউশনে যুক্ত থাকতে পারবেন না।
জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শকের দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘শিক্ষার অধিকারের আইন, ২০০৯’-এর নির্দেশনা অনুসারেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, শিক্ষক-শিক্ষিকারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনও ভাবেই বেসরকারি কোচিং বা টিউশনের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না। নতুন এই নির্দেশিকা ইতিমধ্যেই জেলার সব অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকদের পাঠানো হয়েছে। তাঁদের মাধ্যমে তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে। স্কুলপ্রধানদের বলা হয়েছে, যাতে তাঁদের বিদ্যালয়ের কোনও কর্মী এই নির্দেশ লঙ্ঘন না করেন।
আরও পড়ুনঃ কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদীদের রক্তঝরা খেলা, হতাহত বহু পর্যটক
উল্লেখযোগ্য, বিগত বছরগুলিতে শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে। সেই নিয়ে রাজ্যজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে আইনি পদক্ষেপ পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও আগেই মধ্যশিক্ষা পর্ষদের তরফে টিউশন নিষেধ করে বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছিল। এবার সেই রাস্তায় হাঁটল প্রাথমিক স্তরও।
জেলা শিক্ষা দপ্তরের এক কর্তা জানান, “শিক্ষকদের কাছে শিক্ষাদান কেবল চাকরি নয়, এটা একটা দায়িত্ব। বিদ্যালয়ের পাঠক্রম ও শিশুদের স্বার্থ রক্ষা করতেই এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে।”
নতুন নির্দেশিকার ফলে বহু শিক্ষকই এবার হয়তো তাঁদের অতিরিক্ত আয়ের রাস্তা হারাবেন, তবে শিক্ষা পরিবেশকে স্বচ্ছ রাখতে প্রশাসনের এই পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন শিক্ষামহলের একাংশ।
