ফেসবুক বিতর্কের পরই কঠোর পদক্ষেপ, তেজপ্রতাপকে ছেঁটে ফেলল পরিবার
Connect with us

ভাইরাল খবর

ফেসবুক বিতর্কের পরই কঠোর পদক্ষেপ, তেজপ্রতাপকে ছেঁটে ফেলল পরিবার

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্ক: লোকসভা নির্বাচনের আগে চূড়ান্ত নাটক বিহারের রাজনীতিতে। নিজের বড় ছেলে তেজপ্রতাপ যাদব (Tej Pratap Yadav)–কে দল থেকে বহিষ্কার করলেন আরজেডি (RJD) সুপ্রিমো লালুপ্রসাদ যাদব (Lalu Prasad Yadav)। শুধু রাজনৈতিক সংগঠন থেকেই নয়, পারিবারিক সম্পর্ক থেকেও তেজপ্রতাপকে কার্যত ত্যাগ করেছেন লালু। আরজেডি সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে শৃঙ্খলা ভঙ্গ, দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জেরেই এই কড়া পদক্ষেপ।

শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে লালুপ্রসাদ বলেন, “আমার বড় ছেলে দল ও পরিবারের আদর্শ এবং শৃঙ্খলা মানছে না। ওর কার্যকলাপে বারবার সংগঠনের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। বহুবার সতর্ক করা সত্ত্বেও কোনও পরিবর্তন হয়নি। তাই অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমি ওকে আরজেডি এবং পরিবার থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগামী ছয় বছরের জন্য ওর উপর রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি থাকছে।”

সম্প্রতি একটি ব্যক্তিগত কাণ্ড নতুন করে বিতর্কে এনে ফেলে তেজপ্রতাপকে। ফেসবুকে তাঁর প্রোফাইল থেকে পোস্ট হয়, যেখানে লেখা হয়— তিনি গত ১২ বছর ধরে এক যুবতীর সঙ্গে সম্পর্কে রয়েছেন। ‘ইন অ্যা রিলেশনশিপ’ স্টেটাস-সহ সেই পোস্ট মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। যদিও কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সেই পোস্ট মুছে ফেলা হয় এবং তেজপ্রতাপ দাবি করেন, তাঁর অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ অভিযান চলাকালীন পাকিস্তানের সঙ্গে যোগ, ডিগ থেকে ধৃত ভারতীয় যুবক

Advertisement
ads

তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এই বিতর্কই ছিল ‘ট্রিগার পয়েন্ট’। এরপরই লালু সিদ্ধান্ত নেন ছেলেকে সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক ও পারিবারিক বৃত্ত থেকে ছেঁটে ফেলার।

তেজপ্রতাপের রাজনৈতিক পথচলা শুরু হলেও, বরাবরই তিনি ছিলেন ‘বিদ্রোহী’ মেজাজের নেতা। ভাই তেজস্বী যাদব (Tejashwi Yadav)-এর সঙ্গে দলের নেতৃত্ব নিয়ে বারবার সংঘাতে জড়িয়েছেন। যদিও লালু সবসময় ছোট ছেলেকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। যার ফলে ধীরে ধীরে দলের মূল কর্মকাণ্ড থেকে সরে গিয়েছিলেন তেজপ্রতাপ। মাঝে অভিনয়ে নাম লেখানো, নাটকে অংশগ্রহণ, এমনকি সিনেমার জগতে প্রবেশের চেষ্টাও করেছিলেন।

এই বহিষ্কার নিঃসন্দেহে আরজেডির অন্দরে বড় সিদ্ধান্ত। বিহারে চলতি বছরই লোকসভা নির্বাচন। এমন সময়ে বড় ছেলেকে বহিষ্কার করা নিছক পারিবারিক সিদ্ধান্ত নয়, এর রাজনৈতিক বার্তাও স্পষ্ট। প্রশ্ন উঠছে— এই ঘটনায় কার ফায়দা হবে? বিজেপি কি এই বিভাজনকে হাতিয়ার করবে, নাকি লালুর এই কড়া অবস্থানেই দল আরও ঐক্যবদ্ধ হবে?

সমর্থকরা আপাতত নিঃশব্দ। তবে বিহারের রাজনৈতিক বাতাসে তেজপ্রতাপের বহিষ্কার যে নতুন হাওয়া তুলবে, তা বলাই যায়।

Advertisement
ads