দুর্ঘটনা
পরীক্ষা দিয়ে গেল, ফল জানল না: মেধাবী ছাত্রী থৈবির জীবনের অসমাপ্ত লড়াই
ডিজিটাল ডেস্কঃ আসানসোলের উমারানি গড়াই স্কুলে আনন্দের মাঝেও যেন ছায়া নেমে এসেছে। কারণ যে মেয়ে স্কুলের গর্ব হয়ে উঠতে পারত, সে আজ আর নেই। চলতি বছরে মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৬৭৪ নম্বর পেয়ে স্কুলের সেরা হয়েছে থৈবি মুখোপাধ্যায়। কিন্তু সেই আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার মতো আর রইল না সে নিজেই। ফল প্রকাশের মাত্র ১৭ দিন আগেই জন্ডিসের কারণে জীবনাবসান হয়েছে এই মেধাবী ছাত্রীর।
থৈবির বাবা বিবেকানন্দ মুখোপাধ্যায় পেশায় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক। মা পিউ মুখোপাধ্যায় গৃহবধূ। পরীক্ষা শুরুর কিছুদিন আগে হঠাৎই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে থৈবি। ধরা পড়ে জন্ডিস। পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়। চিকিৎসার জন্য দ্রুত ভেলোরের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। লিভার প্রতিস্থাপনের খরচ ছিল প্রায় ১ কোটি টাকা। খবর ছড়িয়ে পড়তেই সহপাঠী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও স্থানীয় মানুষজনের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তহবিল গঠন করে তোলা হয় প্রায় ৪৫ লক্ষ টাকা। কিন্তু সময় থেমে থাকেনি। চিকিৎসা চলার মাঝেই ১৬ এপ্রিল থৈবির মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুনঃ নিজের পায়ে দাঁড়াও’—মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা জীবনমন্ত্র সুস্মিতার, স্টার্টআপ আখের রসে
অথচ অসুস্থ শরীর নিয়েও সে পরীক্ষা দিয়েছিল। আর সেই পরীক্ষার ফলাফল প্রমাণ করল, লড়াইটা কতটা অসম ছিল, অথচ থৈবি কতটা দুর্দান্ত যোদ্ধা ছিল। বাংলায় ৯৯, ইংরাজিতে ৯২, অঙ্কে ৯৮, ফিজিক্যাল সায়েন্সে ৯৭, লাইফ সায়েন্সে ৯৮ এবং ইতিহাস ও ভূগোলে ৯৫ করে নজর কাড়ে এই ছাত্রী।
ফল প্রকাশের পর শিক্ষক-শিক্ষিকাদের চোখে জল। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা থেকে শুরু করে সহপাঠীরা বলছেন, “থৈবি শুধু পড়াশোনায় নয়, গান, আঁকায়ও অসাধারণ। সুস্থ অবস্থায় পরীক্ষা দিতে পারলে হয়তো রাজ্যের শীর্ষ স্থানই দখল করত।”
ঘরের এক কোণে থৈবির হাসিমুখের ছবি হাতে নিয়ে বসে রয়েছেন বাবা-মা। মুখে কোনো কথা নেই, শুধু চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে অশ্রুধারা। থৈবির অভাব অপূরণীয়। কিন্তু তার অদম্য লড়াই, মেধা ও সাফল্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকল সকলের জন্য।
