কাশ্মীর নিয়ে ‘ত্রিপাক্ষিক’ তত্ত্ব তুলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে মুখ রক্ষা করতে মরিয়া পাকিস্তান
Connect with us

হামলা

কাশ্মীর নিয়ে ‘ত্রিপাক্ষিক’ তত্ত্ব তুলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে মুখ রক্ষা করতে মরিয়া পাকিস্তান

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (PoK) ঘিরে এবার বড়সড় কূটনৈতিক ও সামরিক চাপে পড়েছে ইসলামাবাদ। একদিকে নিজেদের অধিকৃত ভূখণ্ডে জনরোষ, অন্যদিকে ভারতের প্রত্যাঘাত ও আন্তর্জাতিক মহলে কড়া বার্তা—সব মিলিয়ে কার্যত কোণঠাসা পাকিস্তান।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জনগণ পাক সেনা ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রতিবাদে সরব হয়েছেন। রাস্তা দখল করে বিক্ষোভ, সরকারি সম্পত্তি জ্বালানো থেকে শুরু করে সেনা ঘাঁটিতে হামলা—পিওকে-তে বিদ্রোহের আঁচ দিন দিন বেড়েই চলেছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট—আলোচনার একমাত্র বিষয় হতে পারে পিওকে-র প্রত্যাবর্তন।

পহেলগামে (Pahalgam) জঙ্গি হামলার জবাবে ভারতের চালানো অপারেশন সিন্দুর (Operation Sindoor) পাকিস্তানের একাধিক সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটি ও সেনা পরিকাঠামো গুঁড়িয়ে দেয়। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh) কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, “অপারেশন সিন্দুর ছিল শুধু ট্রেলার, পুরো ছবি এখনও বাকি।”

আরও পড়ুনঃআত্মসমর্পণের অনুরোধ উপেক্ষা, ভিডিওয় আর্মিকে হুমকি দিয়ে খতম জঙ্গি

Advertisement
ads

এই অবস্থায় পাকিস্তান নতুন এক কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে, যার পেছনে রয়েছে তাদের পুরনো মিত্র চিন (China)। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আহমেদ শরিফ চৌধরি (DG ISPR Ahmed Sharif Chaudhry) সম্প্রতি দাবি করেন, “কাশ্মীর একটি ত্রিপাক্ষিক বিষয়, যেখানে ভারত, পাকিস্তান ও চিন জড়িত।” বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে চিনকে সামনে এনে ভারতের মোকাবিলা করার চেষ্টা করছে পাকিস্তান।

অন্যদিকে, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S. Jaishankar) আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, “পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা হবে শুধুমাত্র পিওকে-র পুনরুদ্ধার নিয়ে।” এছাড়াও, সিন্ধু জল চুক্তি (Indus Water Treaty) স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত ভারতের তরফে কার্যকর হয়েছে, যতদিন না পাকিস্তান তার সন্ত্রাসে মদত দেওয়া বন্ধ করছে।

এই মুহূর্তে পাকিস্তান একদিকে অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ, অন্যদিকে ভারতের কূটনৈতিক ও সামরিক চাপে জর্জরিত। পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা চিনের হাত ধরার চেষ্টা করলেও আন্তর্জাতিক স্তরে সেই কৌশল কতটা সফল হবে, তা নিয়ে সন্দিহান বিশেষজ্ঞরা। ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি আক্রমণাত্মক এবং ঐক্যবদ্ধ—যার পেছনে রয়েছে পিওকে-র জনগণের সরাসরি সমর্থন।

Advertisement
ads
Continue Reading
Advertisement