দেশের খবর
ট্রেনে ওঠার হুড়োহুড়িতে প্ল্যাটফর্মে হুড়োহুড়ি! কিভাবে ঘটলো দুর্ঘটনা?
রাজধানীতে মহা বিপর্যয়
মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী থাকলো নয়াদিল্লির রেলওয়ে স্টেশন। চোখের সামনে কেও মা কেও বাবা অথবা কেও বন্ধু বান্ধব হারিয়েছেন। এমনকি নিজের সন্তানকেও হারিয়েছেন অনেকে। খালি হয়েছে অনেক মায়ের কোল। নিজের প্রিয় মানুষকে হারিয়ে দিশে হারা হয়ে পড়েছে অনেক পরিবার। আবারও এক ভয়ঙ্কর রাত। রাজধানীর স্টেশনে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হলো অন্তত ১৮ জনের। অন্যদিকে আহতরা চিকিৎসাধিন দিল্লির হাসপাতালে । জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে নয়াদিল্লির ১৪-১৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় যাত্রীদের মধ্যে। প্রয়াগরাজ যাওয়ার পথেই ঘটে এই অঘটন ।
ফের রেলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। রেলের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন যাত্রীরা। পদপিষ্ট হয়ে জখম হয়েছেন বহু মানুষ। জানা যায়, হঠাৎই ট্রেন বাতিলের গুজব ছড়িয়ে পড়ে স্টেশনে থাকা যাত্রীদের মধ্যে । ঠিক তারপরই ট্রেনে ওঠার সময় বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় স্টেশনে । ট্রেন ধরার জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে যায় স্টেশন চত্বরে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, প্রচন্ড ভিড় হয়ে গিয়েছিল স্টেশনে। কারো মাথা ছাড়া কিছুই দেখা যাচ্ছিল না । এমনকি ঘটনাস্থলে কোনও পুলিশ কর্মী ছিল না বলেও জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা ।
ঠিক কি ঘটেছিল শনিবার রাতে?
প্রশ্ন উঠেছে ট্রেনের পরিকাঠামোর গলদেই কি এই দুর্ঘটনা? কেন এত ভিড় দেখেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি রেলের পক্ষ থেকে? স্থানীয় সূত্রের দাবি, স্বতন্ত্রতা সেনানী এক্সপ্রেস এবং ভুবনেশ্বর-রাজধানী এক্সপ্রেস এই দুটি ট্রেনে প্রয়াগরাজ যাবেন বলে বহু মানুষ ১২ এবং ১৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু দুটি ট্রেনের কোনওটিই সময়মতো পৌছয়নি। এর মধ্যে কুম্ভের জন্য স্পেশাল ট্রেন প্রয়াগরাজ এক্সপ্রেস ঢুকে পড়ে ১৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মে।
প্রয়াগরাজ এক্সপ্রেস আসতে দেখে ওই ট্রেনের যাত্রীরা তো বটেই বাকি দুটি ট্রেনের যাত্রীরাও ১৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মের দিকে ছুটতে থাকেন। সকলে একসঙ্গে ওই ট্রেনটিতে ওঠার চেষ্টা করলে অনেকে পড়ে যান। প্ল্যাটফর্মের যাত্রী এক প্ল্যাটফর্মে চলে আসায় ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি বলে রেলের দাবি।এত বেশি সংখ্যায় অসংরক্ষিত টিকিট বিক্রির পরও কোনওরকম সচেতনতামূলক পদক্ষেপ কেন করে নি রেল? প্রশ্ন উঠছে সেবিষয়ে।
রেলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ও আর্থিক সাহায্য
রেলের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত পনেরোশো টিকিট বিক্রির অভিযোগ উঠেছে । অসংরক্ষিত কামড়ায় অতিরিক্ত টিকিট বিক্রির অভিযোগ জানিয়েছেন যাত্রীরা। দুর্ঘটনার পর রাতেই খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব । মৃতদের পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করা হয় রেল মন্ত্রকের পক্ষ থেকে। অপরদিকে যারা গুরুতর আহত তাদের আড়াই লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করে রেল।
রেলের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । ঘটনার পর বাতিল করে দেওয়া হয়েছে উত্তরপ্রদেশ মুখী একাধিক ট্রেন। এমনকি নিজামউদ্দিন স্টেশন থেকেও ট্রেন ডাইভার্ট করা হয়েছে । দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এছাড়াও ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ।
