কলকাতা
‘মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ না এলে চিকিৎসা হবে না’ , বাধ্য হয়ে আন্দোলন তুললেন শিক্ষকরা
নিউজ ডেস্ক: গত বৃহস্পতিবার থেকে হকের চাকরি ফেরানোর দাবিতে অনড় কর্মহীন যোগ্য চাকরিহারারা। এই কদিনে অনেক ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে তাদের। খাবার মেলেনি, জল মেলেনি , রাস্তায় বসে বাইকের দাপাদাপি! খোলা আকাশের নীচে বসা! পুলিশ ত্রিপল টাঙাতে দিচ্ছে না, বায়ো টয়লেট বসাতে দিচ্ছে না। অনশন তুলে নিতে বাধ্য হয়েছি, দাবি শিক্ষকদের।
চারদিনের মাথায় এসএসসি ভবনের সামনে থেকে অনশন তুলে নিলেন তিন শিক্ষক। চরম অব্যবস্থার অভিযোগ উঠল পুলিশের বিরুদ্ধে। এই তিনদিনের ঘটনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে প্রশাসনের দিকেই আঙুল তুললেন অনশনরত শিক্ষকরা। তারা জানালেন, কোনওভাবেই কোনও সহযোগিতা পাওয়া যায়নি পুলিশের পক্ষ থেকে।
এমনকি আমাদের সহযোগিতা করেননি স্থানীয় লোকজন বা পাশে থাকা রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ও। রাস্তায় বসাতে দেওয়া হয়নি বায়ো টয়লেটও। একদিকে ধুলো-বালি, অন্যদিকে বাইকেরও তাণ্ডবও একপ্রকার। এইসব কারণে অনশন তুলে নিতে কার্যত বাধ্য হন ৩জন শিক্ষক।
আরেকজন আন্দোলনকারী বলেন, কোনও অনশনকারী যদি অসুস্থ হয়ে পড়েন তার জন্য অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থাও নেই, হাসপাতালে নিয়ে গেলে বলছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ না এলে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া যাবে না। সরকার থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছিল, এমনকি বিভিন্ন শিক্ষক মহল থেকেও আলোচনা করা হচ্ছিল যাতে এই আন্দোলন-অনশন তুলে নেওয়া হয়।
আরও পড়ুন – চাকরির অপরাধে শিকল! স্বাবলম্বী হতে চাওয়া মেয়েকে ঘরবন্দি করলেন বাবা-মা
এসবের মধ্যেও মনোবল ধরে রেখেছেন চাকরিহারারা। আজ অনশন তুলে নিলেও, দরকার পড়লে আবারও অনশনে বসার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তবে, এবার আর ব্যবস্থা করেই অনশনে বসা হবে, যাতে এমন প্রতিকূলতা না আসে। চাকরিহারাদের দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন জারি থাকবে বলেও জানিয়ে দিয়েছেন তারা। উল্লেখ করেন, থামছে না আমাদের লড়াই, শুধু পন্থাটা পাল্টে যাবে।
এর পরবর্তী কর্মসূচি? পরবর্তীতে জেলায় জেলায় কমিটি তৈরি করা। জেলায় জেলায় আন্দোলন, সঙ্গে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ। প্রয়োজন পড়লে সিবিআই দফতর অভিযান।
আরও পড়ুন – খাবার-জলের অতিরিক্ত দাম নিয়ে প্রতিবাদ, ট্রেনে যাত্রীকে মার আইআরসিটিসি কর্মীদের
