দেশের খবর
চোখের জলে বিদায়! বীর শহীদ ঝন্টুর মৃত্যুতে শোকাহত গ্রাম
নিউজ ডেস্ক: জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওতে সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৭ জন। ভারত-পাক উত্তেজনার মাঝে কাশ্মীরের উধমপুরে শুরু হয় সেনা-জঙ্গির গুলির লড়াই। সেই অপারেশনেই শহিদ হন বাংলার বীর সন্তান ঝন্টু আলি শেখ।
গত বৃহস্পতিবার গুলির লড়াইয়ে শহীদ হয়েছেন ঝন্টু। দুঃসংবাদ খবর পান তাঁর পরিবারের লোকজন। শুক্রবার রাতে কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছয় নদিয়ার তেহট্টের পাথরঘাটার বাসিন্দা বীর শহীদ তথা ঝন্টুর আলীর দেহ । সেখান থেকে তার কফিনবন্দি দেহ নিয়ে যাওয়া হয় বারাকপুর সেনা ছাউনিতে।
সেখানে গান স্যালুট দেওয়া হয় তাকে। বীর শহিদ জওয়ানকে শেষবার দেখতে তেহট্টের পাথরঘাটায় লোকে লোকারণ্য। চির ঘুমে চলে গেল গ্রামের ছেলে, বাংলার ছেলে। চোখের জল থেমে থাকছে না কারও। ফুল, চোখের জলে বীর শহিদ জওয়ানকে শেষ বিদায় দিল গ্রামবাসী। চোখের জল মুছতে মুছতে সকলের মুখে একটাই সুর, ভারতমাতা কি জয়।
গত বৃহস্পতিবার শহীদ হয়েছেন ভারতীয় সেনা জওয়ান। আজ শনিবার সকালে পাথরঘাটার গ্রামের বাড়িতে ঝন্টুর কফিনবন্দি দেহ পৌঁছল। কিন্তু, ততক্ষণে বাড়ির সামনে ভিড় যেন উপচে পড়ছে। সকলের চোখে অশ্রু। এলাকাবাসীদের মুখে ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান।
বৃদ্ধ বাবা ছেলের কফিনবন্দি মৃতদেহের সামনে বুকফাটা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। চোখের জলও বাঁধ মানছে না মায়ের। যাকে জন্ম দিয়েছেন, ছোটবেলা থেকে কোলে, পিঠে করে মানুষ করেছেন, সেই সন্তানের মৃত্যু মানতে পারছেন না বৃদ্ধ দম্পতি। এদিকে সদ্য স্বামীহারা ঝন্টুর স্ত্রীর চোখেও জল। বুকে যেন আগুন জ্বলছে।
জোনটির স্ট্র্রে বলেছে, আমার সন্তানরা তাদের বাবাকে হারিয়েছে। দোষীদের কঠোর শাস্তি চাই। বলে রাখা ভালো, ২০০৮ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন টঢ়ত্বের ঝন্টু আলী শেখ। বাড়িতে রয়েছে বৃদ্ধ বাবা-মা ও দাদা। তারই মাঝে সংসার পাতেন। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে দিব্যি ছিলেন।
আরও পড়ুন – উধমপুরের এনকাউন্টারে শহিদ নদিয়ার ঝন্টু, শোকের ছায়া বাংলায়
কিন্তু, বছর দেড়েক আগেই কাশ্মীরে পোস্টিং হয়েছে ঝন্টুর। তাই স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে কাশ্মীরেই থাকতেন। ছুটিতে আসতেন গ্রামের বাড়িতে। গত ফেব্রুয়ারি মাসেও স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বাবা-মায়ের কাছে আসেন ঝন্টু। তবে কিভাবে বোঝা যাবে যে সেই আশাই শেষবার।
তারপর যে এভাবে কফিনবন্দি হয়ে গ্রামের ছেলে ফিরবেন, তা স্বপ্নেও কল্পনা করেননি পরিবার ও গ্রামবাসীরা। শোকস্তব্ধ গোটা এলাকা। এদিকে ঝন্টুর দাদাও ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত। মৃত ভাইয়ের কফিনবন্দি দেহ নিজের কাঁধে করে গ্রামে নিয়ে ফেরেন তিনি। শহিদ ভাইয়ের আত্মত্যাগে গর্বিত তার ঝন্টু আলীর দাদা। চির বিদায়।
আরও পড়ুন – আর রেহাই নয়, অ্যাকশন সেনার! গুঁড়িয়ে দেওয়া হল আরও ৩ জঙ্গির বাড়ি
