শিক্ষক অপ্রতুলতার জেরে মহাসংকটে রায়গঞ্জের বাহিন উচ্চ বিদ্যালয়
Connect with us

রায়গঞ্জ

শিক্ষক অপ্রতুলতার জেরে মহাসংকটে রায়গঞ্জের বাহিন উচ্চ বিদ্যালয়

Dwip Narayan Chakraborty

Published

on

নিউজ ডেস্ক: সুপ্রিম কোর্টের রায়ে এক ধাক্কায় বিদ্যালয় থেকে বেড়িয়ে গেলেন প্রায় ২৫ শতাংশ শিক্ষক-শিক্ষিকা। চাকরী খোয়ালে ১ জন গ্রুপ-ডি কর্মীও। এর জেরে মহাসংকটে পড়েছে রায়গঞ্জের বাহিন উচ্চ বিদ্যালয়। কিভাবে চলবে পঠনপাঠন? হতাশায় প্রধান শিক্ষক। বাঁধ মানলো না চোখের জল।

একধাক্কায় একাধিক শিক্ষকের চলে যাওয়া। বাঁধ মানল না চোখের জল। ভেঙে পড়লেন রায়গঞ্জের বাহিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে রাজ্যের জেলায় জেলায় হাহাকার। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম রায়ে চাকরী হারিয়েছেন ২০১৬ সালে এসএসসি’র প্যানেলভুক্ত প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অশিক্ষক কর্মী।

যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে একাধিক বিদ্যালয়ে। একেকটি বিদ্যালয় থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মীদের চাকরী বাতিল হয়েছে। ফলে আচমকা শূন্যতা তৈরী হয়েছে বিদ্যালয়গুলিতে। শিক্ষক-শিক্ষিকার অভাবে একদিকে যেমন লাটে উঠবে পঠনপাঠন অন্যদিকে অশিক্ষক কর্মীরা চলে যাওয়ায় বিদ্যালয়ের আনুসাঙ্গিক কাজকর্মে তৈরী হবে জটিলতা।

এমন সমস্যার মধ্যে পড়ে যাওয়া বিদ্যালয়গুলির তালিকায় রয়েছে রায়গঞ্জ ব্লকের বাহিনী উচ্চ বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয়ের বর্তমানে পড়ুয়ার সংখ্যা ২০২৪। প্রধান শিক্ষক সহ শিক্ষক শিক্ষিকার সংখ্যা ছিল ২১ জন। বিদ্যালয় সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে ২১ জন শিক্ষক শিক্ষিকার মধ্যে চাকরি বাতিল হয়েছে পাঁচজনের। এছাড়াও একজন গ্রুপ ডি কর্মীর চাকরীও বাতিল হয়েছে।

Advertisement
ads

এই পরিস্থিতিতে মহাসংকটে পড়েছে এই বিদ্যালয়। বর্তমানে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা এসে দাঁড়িয়েছে ১৬ জন। প্রধান শিক্ষককে বাদ দিতে থাকছেন ১৫ জন। পঞ্চম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত এতগুলি শ্রেণীতে এই ক’জন শিক্ষক-শিক্ষিকা দিয়ে পঠন-পাঠন স্বাভাবিক রাখা আদৌ সম্ভব? তানিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন। জানিয়ে রীতিমতন হতাশায় প্রধান শিক্ষক। কেঁদে ফেললেন প্রধান শিক্ষক।

আরও পড়ুন – চাকরি বাতিলে শূন্যতা! বিজ্ঞান বিভাগ পুরোপুরি শূন্য রায়গঞ্জের বিন্দোল উচ্চ বিদ্যালয়ে

প্রধান শিক্ষক বিল্লনাথ পাল বলেন, বর্তমানে এই বিদ্যালয়ে পঠন পাঠন পরিচালনার ক্ষেত্রে চরম সমস্যা তৈরি হল। তিনি ছাড়া ১৫ জন শিক্ষক বাকি থাকলেন। যাদের মধ্যে দু তিনজন শিক্ষক নোডাল শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। ফলে প্রতিটা শ্রেণীতে প্রতিদিন শিক্ষক দেওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। দর্শন এবং এডুকেশন বিষয়ে তৈরি হল শূন্যতা।

অঞ্জলি রায় নামের এক পড়ুয়া বলেন, তাদের দর্শন এবং এডুকেশন বিষয়ে শিক্ষক শিক্ষিকারা চাকরি হারিয়েছেন। তারা বিদ্যালয় ছেড়ে চলে গেলে চরম সমস্যা তৈরি হবে।জিৎ সরকার নামের এক পড়ুয়া বলেন, তারা গ্রামে থাকেন। শহরে গিয়ে টিউশন পড়া সম্ভব নয়। তাদের একমাত্র ভরসা বিদ্যালয়। অপর এক পড়ুয়া শাবনুর খাতুন বলেন, বিদ্যালয় থেকে শিক্ষক শিক্ষিকারা চলে গেলে বড় সমস্যা তৈরী হবে। পিছিয়ে যাবে সমস্ত পড়ুয়া।

Advertisement
ads

আরও পড়ুন – এসএসসি বাতিলের জেরে আর্থিক সংকট, ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা শিক্ষিকার

Continue Reading
Advertisement