নারী দিবসের অঙ্গীকার – শক্তি, সম্মান ও সমান অধিকার
Connect with us

স্টোরি

নারী দিবসের অঙ্গীকার – শক্তি, সম্মান ও সমান অধিকার

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ আজ ৮ মার্চ, সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এই দিনটি নারীদের অধিকার, সংগ্রাম ও সাফল্য উদযাপনের জন্য নির্ধারিত। ভারত ও পশ্চিমবঙ্গেও নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটি পালিত হচ্ছে। তবে এখনও সমাজে নারীদের অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে, যা আমাদের ভাবিয়ে তোলে।

নারী দিবসের সূত্রপাত ১৯০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরে একদল সাহসী নারী শ্রমিকের আন্দোলনের মাধ্যমে। তারা সমান বেতন, কাজের নির্দিষ্ট সময় এবং ভালো কর্মপরিবেশের দাবিতে রাস্তায় নেমেছিলেন। পরে ১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিন এই দিনটি আন্তর্জাতিকভাবে পালনের প্রস্তাব দেন। অবশেষে ১৯৭৭ সালে জাতিসংঘ ৮ মার্চকে “আন্তর্জাতিক নারী দিবস” হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

আরও পড়ুনঃনারী দিবসে বঞ্চনা ঘোচাতে বিধায়কের বাড়ির সামনে ধর্ণায় বৃদ্ধা

ভারতে নারী দিবসের গুরুত্ব অত্যন্ত গভীর। একসময় নারীদের শিক্ষার অধিকার ছিল না, তারা ভোটাধিকার থেকেও বঞ্চিত ছিলেন। কিন্তু বহু সংগ্রামের ফলে আজ নারীরা সমাজের সব ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছেন। ভারতের সংবিধান নারীদের সমানাধিকারের স্বীকৃতি দিয়েছে, যা নারীর ক্ষমতায়নে বড় ভূমিকা রাখছে। তবে বাস্তবে এখনও অনেক বাধা রয়েছে। গ্রামাঞ্চলে মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়, কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গবৈষম্য বিদ্যমান, এবং পারিবারিক ও সামাজিক নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়।

Advertisement
ads

প্রতি বছর নারী দিবসের জন্য আলাদা থিম নির্ধারণ করা হয়। ২০২৫ সালের থিম হলো “নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও প্রযুক্তিতে সমান অংশগ্রহণ”। বর্তমান যুগে প্রযুক্তি ও ডিজিটাল বিশ্বে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ভারতের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে এই উপলক্ষে। পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিশেষ নারী কল্যাণ প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে বিধবা ভাতা বৃদ্ধি, মেয়েদের উচ্চশিক্ষার জন্য অনুদান এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি।

আরও পড়ুনঃ বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরিতে অ্যাসিড দুর্ঘটনায় আহত ছাত্রী, চাঞ্চল্য রায়গঞ্জে

নারী দিবস কেবল একদিনের উদযাপন নয়, বরং এটি নারী-পুরুষ সমতার দিকে আরও একধাপ এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ। নারীর ক্ষমতায়ন হলে সমাজ ও দেশ শক্তিশালী হয়। ভবিষ্যতে সমাজে নারীদের আরও বেশি সম্মান ও সমান সুযোগ দিতে হবে। কর্মক্ষেত্রে, শিক্ষাক্ষেত্রে এবং পারিবারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীদের সমান ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে। নারী দিবস উপলক্ষে আমাদের শপথ নেওয়া উচিত—নারী নির্যাতন রোধ করা, নারীদের কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং প্রযুক্তি ও অর্থনীতিতে নারীদের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

ভারতে এখনও নারী নির্যাতনের হার উদ্বেগজনক। ঘরোয়া সহিংসতা, ধর্ষণ ও যৌন হয়রানি বড় সমস্যা। শহরাঞ্চলে নারী শিক্ষার হার বাড়লেও গ্রামাঞ্চলে এখনও মেয়েদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ কম। এমনকি কর্মক্ষেত্রেও নারীরা সমান সুযোগ পান না। একই কাজের জন্য পুরুষের তুলনায় নারীরা কম পারিশ্রমিক পান। তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞান ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ এখনও কম।

Advertisement
ads

নারী দিবস শুধুমাত্র উৎসব নয়, এটি নারী অধিকার ও স্বাধীনতার প্রতীক। ভারত সহ পুরো বিশ্বে নারীরা এখন এগিয়ে যাচ্ছে, তবে এখনও অনেক পথ বাকি। সমাজের প্রতিটি স্তরে সমতা আনতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত হলে তবেই সমাজ এগিয়ে যাবে। এই নারী দিবসে, আসুন আমরা সবাই মিলে নারীদের সমান অধিকার ও স্বাধীনতার জন্য সচেতন হই এবং নারীশক্তিকে সম্মান জানাই।