জেলার খবর
তৃণমূলের মহিলা প্রধানের বাড়িতে দুস্কৃতী হামলা, দলের অন্দরে কোন্দল?
মালদার পর এবারে রায়গঞ্জ। শাসক দলের জনপ্রতিনিধির বাড়িতে দুস্কৃতী হামলা। ঘটনায় তুমুল চাঞ্চল্য ছড়াল গোটা এলাকায়। বৃহস্পতিবার ভোর সোয়া ৪টা নাগাদ এই ঘটনাটি ঘটেছে রায়গঞ্জ থানার ১০ নং মারাইকুরা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত দেবীনগরে কসবা ২নং গেটের কাছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান তৃষা প্রামানিক রায়ের বাড়িতে চলল হামলা। একের পর এক ছোঁড়া হল ইট, পাথর। প্রধানের অভিযোগ গুলি এবং বোমাও ছোঁড়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় আটক করা হয়েছে একজনকে। প্রধানের স্বামী তথা জেলা যুব তৃণমূলের সহকারী-সভাপতি কুশল প্রামানিক তিন জন দুস্কৃতীর নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করছেন।
এদিকে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে তারা সকলেই তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিনিধি বলে দাবী করেছেন সংগঠনের ব্লক সভাপতি পার্থ দাস। বিষয়টি নিয়ে পার্থ বাবুর সাথে ঘটনাস্থলেই বচসায় জড়ান প্রধান এবং তার স্বামী৷ গোটা ঘটনায় রাজনৈতিক শোরগোল। ভোরবেলায় এমন ঘটনার জেরে আতঙ্কিত সকলেই। নিরাপত্তা ঘিরে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন।
১০ নং মারাইকুরা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান তৃষা প্রামানিক রায় বলেন, ভোর সোয়া ৪টা নাগাদ প্রচন্ড আওয়াজে ঘুম ভেঙে যায়। একের পর এক কাঁচের জানালা লক্ষ্য করে ইট, পাথর ছোঁড়া হয়। গুলি ও বোমাও ছোঁড়া হয়েছে। নিরাপত্তা নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই চিন্তিত তিনি। পুলিশকে ফোন করার পর পুলিশ এসে পৌঁছয়। দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবী জানিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন – পুর কর্মী পরিচয় দিয়ে তোলা আদায়ে গিয়ে ধৃত যুবক
প্রধানের স্বামী তথা জেলা তৃণমূলের সহকারী-সভাপতি কুশল প্রামাণিক বলেন, দুষ্কৃতিদের উদ্দেশ্য ছিল তাদের আক্রমণ করা। ঘটনার পর তিনি যখন নীচে নেমে আসেন তখন তিনি দেখেন তিনজন দুষ্কৃতি মদ্যপ অবস্থায় পালাচ্ছিল। কুশল বাবু বলেন, রুপ, ভোলা ও তনয় নামের তিনজনকে তিনি দেখেছেন।
এই ঘটনার পেছনে কোন বড় মাথা জড়িত রয়েছে। পুলিশি তদন্তে সেই মাথাকে বের করে নিয়ে আসার দাবি জানিয়েছেন তিনি। তার বক্তব্য এর আগে কখনো এই এলাকায় এমন ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে এই এলাকায় প্রতিনিয়ত নিশার আসর বসছে। গোটা ঘটনার উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের দাবী জানিয়েছেন তিনি।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে বাড়ির ভাড়াটিয়া সুমিত্রা রায় বলেন, ভোরবেলা ঘুম ভেঙেই দেখেন বড় বড় ইট পাথর ছোঁড়া হচ্ছে। বাড়িতে দুস্কৃতীরা হামলা করছে। ঘটনার জেরে প্রচন্ড আতঙ্কিত তিনি।
এদিকে এই ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে ছুটে আসেন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ব্লক সভাপতি তথা পার্শ্ববর্তী সংসদের পঞ্চায়েত সদস্যের ছেলে পার্থ দাস। তিনি বলেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হচ্ছে তারা কোনভাবেই এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত নন। তারা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের দায়িত্বে রয়েছেন। তারা ক্যাটারিং করে বাড়ি ফিরছিলেন সেসময়।
খবর পেয়ে এদিন সকালে প্রধানের বাড়িতে ছুটে যান তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি রন্তু দাস। তিনি বলেন, ভোরবেলা দুস্কৃতীরা প্রধানের বাড়িতে ভাংচুর চালায়। বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী ঘটনার কথা জানার পর তাকে পাঠিয়েছেন।
তার দাবী, যে দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করা হয়েছে তারা তৃণমূলের সঙ্গে কোনোভাবেই যুক্ত নন। যারা করেছে তারা বহিরাগত দুস্কৃতী। তারা বিরোধী দলের সাথে যুক্ত হতে পারে। সম্ভবত বিজেপির সাথে তারা যুক্ত। পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আস্থা রয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় বিজেপি নেতা পার্থপ্রতিম চৌধুরী বলেন, বোমাগুলির কালচার তৃণমূল কংগ্রেসের সংস্কৃতি। প্রধানের বাড়িতে হামলার ঘটনা তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জের বলে দাবী তার। পঞ্চায়েতের কোনো টেন্ডারের ভাগ বাঁটোয়ারা নিয়ে ঝামেলার জেরেই এই কান্ড ঘটেছে বলে মনে করছেন তিনি।
