মাতৃযান ধর্মঘটের জেরে বিপাকে প্রসূতী মায়েরা
Connect with us

রায়গঞ্জ

মাতৃযান ধর্মঘটের জেরে বিপাকে প্রসূতী মায়েরা

Dipa Chakraborty

Published

on

নিউজ ডেস্ক , ৩ ডিসেম্বর : প্রসূতিরা যাতে নিশ্চিন্তে হাসপাতালে গিয়ে প্রসব করেন এবং সন্তন নিয়ে নির্বিঘ্নে ঘরে ফিরতে পারেন তার জন্য ২০১১ সালে রাজ্যে চালু হয়েছিল মাতৃযান বা নিশ্চয়যান প্রকল্প। এই প্রকল্পের অধীনে প্রসূতীরা সম্পূর্ণ নিখরচায় পরিষেবা পেয়ে থাকেন।

এবারে এই পরিষেবায় ব্যাঘাত ঘটল রায়গঞ্জে। গত ১লা ডিসেম্বর থেকে রায়গঞ্জ সহ উত্তর দিনাজপুর জেলায় বন্ধ রয়েছে মাতৃযান পরিষেবা। গাড়ির মালিক ও চালকরা কর্মবিরতি পালন করছেন যার ফলে চরম সমস্যায় পরেছেন প্রসূতী ও পরিবারের লোকজন। এই পরিস্থিতিতে প্রত্যন্ত গ্রামগঞ্জ থেকে প্রসবের জন্য হাসপাতালে আসা কিংবা হাসপাতাল থেকে প্রসবের পর বাড়ি ফিরতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বাইরে থেকে অ্যম্বুলেন্স ভাড়া করতে গেলে চাওয়া হচ্ছে মোটা অংকের টাকা৷ তা সম্ভবপর হচ্ছে না গরীব দুঃস্থ মানুষদের পক্ষে। এর জেরে টোটোতে করে কিংবা ভুটভুটি করে যাতায়াত করতে হচ্ছে প্রসূতী মায়েদের।

এক্ষেত্রে শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাবলি সরকার নামের এক মহিলা জানান, হরিরামপুরের মহেন্দ্র এলাকার বাসিন্দা তার মেয়ে প্রসব করেছেন রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজে। এখন মেয়েকে বাড়ি নিয়ে যেতে গিয়ে পরেছেন বিপাকে। মাতৃযান চালকরা যেতে পারবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। এই অবস্থায় কোথায় যাবেন ভেবে পাচ্ছেন না অসহায় বাবলি দেবী। প্রসঙ্গতঃ উত্তর দিনাজপুর জেলায় মোট মাতৃযানের সংখ্যা ৯৩ টি। যার মধ্যে রায়গঞ্জ মেডিক্যালের অধীনে রয়েছে ১১ টি গাড়ি। সব কটি মাতৃযান ধর্মঘটে সামিল হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

দেবাশীষ মজুমদার নামের এক মাতৃযান চালক জানান, দীর্ঘ ৭-৮ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না তারা। গাড়িতে তেল নেই। যার কারনে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন তারা। প্রসূতীদের সমস্যার কথা স্বীকার করলেও নিজেদের রুজিরুটির কথা ভেবে গাড়ি বন্ধ রেখেছেন তারা। একই বক্তব্য মাতৃযান মালিকদেরও। তারা জানান, দীর্ঘ ৭-৮ মাস ধরে বিল বকেয়া রয়েছে। জেলা প্রশাসন থেকে স্বাস্থ্য দফতর, সবখানে জানানোর পরেও কোনো লাভ হয়নি। তাই গাড়ি বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানান মাতৃযান মালিক দিলীপ সরকার। এবিষয়ে আমরা কথা বলেছিলাম রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের রোগী কল্যান সমিতির সদস্য কানাইয়ালাল আগরওয়ালের সাথে। তিনি জানান, জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের সাথে কথা হয়েছে। ১৫ দিনের মধ্যেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

Advertisement
ads
Continue Reading
Advertisement