দেশের খবর
৭ কোটির লড়াইয়ে ‘পাষাণহৃদয়’, কবিগুরুর হাতে তৈরি একমাত্র ভাস্কর্য এখন নিলামে
ডিজিটাল ডেস্কঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Rabindranath Tagore) ছিলেন চিত্রকর, সুরস্রষ্টা, সাহিত্যিক—তাঁর শিল্পীসত্তার বিভিন্ন প্রকাশে বিশ্ব আজও মুগ্ধ। তবে একমাত্র ভাস্কর্য? সেটিও তিনি নিজ হাতে তৈরি করেছিলেন ১৮৮৩ সালে কারোয়ার ভ্রমণের সময়। সেই বিরল শিল্পকৃতি ‘পাষাণহৃদয়’ (The Heart Stone) আগামিকাল উঠতে চলেছে নিলামে। শিল্পমূল্যে মূল্যবান তো বটেই, এটি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের একটি অনুচ্চারিত অধ্যায়েরও নিঃশব্দ সাক্ষী।
কারোয়ারে ঘুরতে গিয়ে এক টুকরো কোয়ার্টজ পাথর তুলে নিয়ে তাতে চার পঙক্তির একটি কবিতা খোদাই করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। বিষয়—অপ্রাপ্ত প্রেম, অবহেলা ও অভিমান। যাঁর উদ্দেশে এই কবিতা, তিনি কাদম্বরী দেবী। ‘পাষাণ হৃদয় কেটে/ খোদিনু নিজের হাতে/ আর কি মুছিবে লেখা/ অশ্রুবারিধারাপাতে?’—এই চতুষ্পদী যেন রবীন্দ্র-কাদম্বরী সম্পর্কের এক অনবদ্য দলিল। এবং সেটাই পাথরের খণ্ডে অমর করে গড়েছেন কবি।
আরও পড়ুনঃ মৃত শিশুর বাড়িতে টাকা নিয়ে বিধায়ক, ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা বলছেন পরিবার
এই ভাস্কর্য রবীন্দ্রনাথ উপহার দেন অক্ষয় চৌধুরীকে। পরে তা তাঁর স্ত্রী, কন্যা হয়ে উত্তরসূরি ইলোরার হাতে আসে। দীর্ঘ ৪৪ বছর আমেরিকার একটি লকারে ‘গচ্ছিত’ থাকার পর সম্প্রতি দেশে ফিরে আসে। গত বছর কলকাতায় প্রদর্শিত হওয়ার পর এবার তা মুম্বইয়ের এক নামী নিলামঘরে উঠতে চলেছে নিলামে।
নিলামে থাকবে রবীন্দ্রনাথের লেখা ৩৫টি চিঠিও—প্রাপক ধুর্জটিপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। সব চিঠিই সাহিত্য, সংগীত ও সমকালীন সাংস্কৃতিক ভাবনার ছাপ বহন করে। অনুমান, ‘পাষাণহৃদয়’-এর দাম উঠতে পারে ৭ থেকে ৮ কোটি টাকার আশেপাশে।
নিলামঘর জানিয়েছে, যেই এই ভাস্কর্য ও চিঠিগুলি কিনুন না কেন, এগুলি দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া যাবে না। তবু প্রশ্ন থেকে যায়—রবীন্দ্রনাথের এই একমাত্র ভাস্কর্য ও দুর্লভ চিঠিপত্র কি শুধুই টাকায় কেনাবেচা হয়? জাতীয় সম্পদ কি বেহাত হতে বসেছে নিছক অর্থবলেই?
প্রশ্নটা আজও থেকে যায়—জানা হলেও, উত্তর আজও অপ্রাপ্ত।
