বাংলাদেশ
‘নতুন বাংলাদেশ’-এর জন্য নতুন ক্যালেন্ডার? ইউনূস সরকারের দিবস ঘোষণা ঘিরে বিতর্ক
ডিজিটাল ডেস্ক: বাংলাদেশে পাল্টে যাচ্ছে ক্যালেন্ডারের মানচিত্র! রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে এবার একগুচ্ছ নতুন দিবসের ঘোষণা করল অন্তর্বর্তী সরকার। বুধবার একটি সরকারি নির্দেশিকায় প্রধানমন্ত্রী মহম্মদ ইউনূস (Mohammad Yunus)-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী প্রশাসন জানায়, ৫ অগস্ট দিনটিকে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ (July Uprising Day) এবং ৮ অগস্ট দিনটিকে ‘নতুন বাংলাদেশ দিবস’ (New Bangladesh Day) হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হল।
এই ঘোষণার পর থেকেই উত্তাল হয়েছে ঢাকার রাজনৈতিক মহল। বিরোধীরা বলছেন, জাতীয় আবেগে শাসকের ব্যক্তিগত প্রচার মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ৭ কোটির লড়াইয়ে ‘পাষাণহৃদয়’, কবিগুরুর হাতে তৈরি একমাত্র ভাস্কর্য এখন নিলামে
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ অগস্ট ছাত্র ও সাধারণ মানুষের গণআন্দোলনের চাপে শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) আওয়ামী লীগ সরকার পতন হয়। সেই দিনটিকেই নতুন করে মনে রাখতে চাইছে বর্তমান শাসক শিবির। পাশাপাশি, ইউনূসের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ গ্রহণের দিন ৮ অগস্টকে ঘোষণা করা হয়েছে ‘নতুন বাংলাদেশ দিবস’ হিসেবে।
এছাড়াও, ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত ছাত্র আবু সইদ-র স্মরণে দিনটি ‘শহীদ আবু সইদ দিবস’ হিসেবে পালন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনটির মধ্যে ৫ অগস্টকে ‘প্রধান দিবস’ এবং বাকি দুটিকে ‘খ শ্রেণিভুক্ত দিবস’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
তবে এই সিদ্ধান্তে খুশি নয় রাজনৈতিক মহলের একাংশ। বিশেষত, ‘নতুন বাংলাদেশ দিবস’ ঘিরে উঠেছে প্রশ্ন। বিরোধীদের দাবি, গণঅভ্যুত্থান এবং শহীদের স্মরণে দিন পালন সম্মানজনক হলেও, ইউনূসের শপথগ্রহণকে কেন্দ্র করে দিবস ঘোষণার কোনও ঐতিহাসিক প্রয়োজন ছিল না। সরকারি মহল সূত্রে খবর, বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের অন্দরেও বিভ্রান্তি ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এখন দেখার, এই নতুন দিবসগুলি আগামী দিনে কতটা সর্বজনগ্রাহ্য হয়ে ওঠে।
