প্রতারণা
পাক গুপ্তচরবৃত্তির জাল! ইউটিউবার জ্যোতির স্বীকারোক্তি, ডায়েরিতে মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
ডিজিটাল ডেস্কঃ ভারতের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাকিস্তানে পাচার করার অভিযোগে ধৃত ইউটিউবার জ্যোতি মালহোত্রা (Jyoti Malhotra) জেরায় স্বীকার করেছেন, তিনি পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করতেন। তাঁর ভ্রমণচ্যানেল ‘Travel With Jo’-এর আড়ালে চলছিল চরবৃত্তির কাজ—এই অভিযোগেই হরিয়ানার হিসার (Hisar, Haryana) থেকে গত ১৬ মে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে।
তদন্তকারী সংস্থাগুলির দাবি, দিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনে ভিসার আবেদন করতে গিয়ে পরিচয় হয় পাকিস্তানি নিরাপত্তা আধিকারিক আহসান-উর-রহিম ওরফে দানিশের (Ahsan-ur-Rahim alias Danish) সঙ্গে। এরপর মোবাইল নম্বর অদলবদলের মাধ্যমে শুরু হয় ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ। জ্যোতি নিজেই জানিয়েছেন, এরপর তিনি দুই বার পাকিস্তান সফরে যান।
সেখানে গিয়ে আলি হাসান (Ali Hasan) নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে পরিচয় হয় আরও কয়েকজন পাকিস্তানি ও ইতালীয় গোয়েন্দা অফিসারের সঙ্গে, যাঁদের তিনি সেনা অফিসার বলেই চিনেছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন শাকির (Shakir) ও রানা শাহবাজ (Rana Shahbaz)। শাকিরের নম্বর নিজের ফোনে ‘জাট রাধাওয়ান’ (Jat Radhawan) নামে সেভ করেন যাতে সন্দেহ না হয়—জেরায় এমনটাই জানিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে কূটনৈতিক যুদ্ধ শুরু, ৩৩টি দেশে ৭টি সর্বদলীয় প্রতিনিধি দল পাঠাল ভারত
ভারতে ফিরে আসার পরও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পাকিস্তানি অফিসারদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন জ্যোতি। তদন্তকারীদের দাবি, ভারত সংক্রান্ত একাধিক স্পর্শকাতর তথ্য তিনি তাঁদের কাছে সরবরাহ করতেন। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি নির্দিষ্ট নির্দেশেই কাজ করতেন, কখন কী তথ্য পাঠাতে হবে তা জানিয়ে দেওয়া হতো।
এই তদন্তে নতুন মোড় এনে দিয়েছে জ্যোতির নিজের হাতে লেখা একটি ডায়েরি (Diary)। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, পাকিস্তান সফরের পর তিনি নিজের অভিজ্ঞতা ইংরেজি ও হিন্দি ভাষায় বিশদে লিখে রেখেছেন এই ডায়েরিতে। প্রায় ১১ পৃষ্ঠার সেই নোটে পাকিস্তানে তাঁর যাত্রাপথ, স্থানীয় আতিথেয়তা এবং ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়ে ব্যক্তিগত মন্তব্য রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, পাকিস্তান সফরে পাওয়া ‘অতিথিপরায়ণতা’তে মুগ্ধ হয়েই ওইসব মন্তব্য করেছিলেন জ্যোতি। তিনি ডায়েরিতে লিখেছেন, “জানি না এই সীমান্তের ঝামেলা কতদিন চলবে, তবে আমি আশা করি একদিন ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরি হবে।”
তদন্তে উঠে এসেছে, দিল্লির পাকিস্তান হাইকমিশনের আধিকারিকদের সহায়তায় পাকিস্তানে তাঁর থাকার এবং যাতায়াতের বন্দোবস্ত হয়েছিল। এমনকি আইএসআই (ISI)-এর একাধিক এজেন্টের সঙ্গে সরাসরি দেখা করেন তিনি। তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, পাকিস্তানে গিয়ে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে (যেমন পাক-আফগান সীমান্ত) সফর করেন জ্যোতি এবং গুপ্তচরবৃত্তির প্রশিক্ষণও নেন বলে প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে।
এই কেলেঙ্কারিতে শুধু জ্যোতি নন, আরও অন্তত ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে এখনও পর্যন্ত বাকিদের কাছ থেকে এমন গুরুত্বপূর্ণ কোনও নথি (যেমন ডায়েরি) মেলেনি।
এদিকে মেয়ে ধৃত হওয়ার পরে প্রথমে বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব না দিলেও পরে অবস্থান বদলেছেন জ্যোতির বাবা হরিশ মালহোত্রা (Harish Malhotra)। সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, “জ্যোতি বলেছিল দিল্লি যাচ্ছে। কিন্তু কোথায় কোথায় গেছে, সেটা আমরা জানতাম না। পাকিস্তানে গেছে, এটা তো ভাবতেই পারিনি। ও বলেছিল চাকরি করছে, পরে বুঝতে পারি ভিডিও বানাত।”
৩৩ বছর বয়সি জ্যোতিকে হরিয়ানার নিউ অগ্রসেন এক্সটেনশন এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন আদালতে তোলা হলে তাঁকে পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানো হয়।
তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই ডায়েরির তথ্য থেকে ভবিষ্যতে আরও বিস্ফোরক তথ্য উঠে আসতে পারে। গোটা দেশজুড়ে ইউটিউব বা সোশ্যাল মিডিয়ার আড়ালে সক্রিয় চরচক্র সম্পর্কে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা এখন আরও সতর্ক।
