উত্তর দিনাজপুর
নার্সদের পোশাক বদলের ঘরে স্পাই ক্যামেরা! ইটাহারে গ্রেপ্তার অভিযুক্ত চিকিৎসক বিশ্বজিৎ ঘোষ
ডিজিটাল ডেস্কঃ উত্তর দিনাজপুরের ইটাহার গ্রামীণ হাসপাতালে (Itahar Rural Hospital) নার্সদের পোশাক পরিবর্তনের ঘরে (Changing Room) গোপন স্পাই ক্যামেরা (Spy Camera) লাগানোর মারাত্মক অভিযোগে ডঃ বিশ্বজিৎ ঘোষ নামে এক চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বুধবার তাঁকে আদালতে পেশ করা হয়েছে। ধৃতের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা বা বিএনএস (BNS) এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের (IT Act) একাধিক কড়া ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
অভিযোগ, গত তিন সপ্তাহ ধরে অভিযুক্ত চিকিৎসক অত্যন্ত সন্তর্পণে নার্সদের ড্রেসিং রুমে একটি স্পাই পেন-ক্যামেরা (Pen Camera) লুকিয়ে রাখতেন। গত ১০ জুন এক কর্মরত নার্সের বিষয়টি নজরে আসে। তিনি চেঞ্জিং রুমের টেবিলে একটি কালো পেন থেকে নীল আলো জ্বলতে (Blinking) দেখে সন্দেহবশত সেটি সরিয়ে রাখেন। পরে অভিযুক্ত চিকিৎসক ফোন করে পেনটি নিজের দাবি করলেও, সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজে তাঁর বারবার ওই ঘরে যাতায়াতের প্রমাণ মেলায় চক্রান্ত ফাঁস হয়ে যায়।
মঙ্গলবার এই ঘটনা জানাজানি হতেই হাসপাতালের নার্স এবং তাঁদের অভিভাবকেরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা বিএমওএইচ (BMOH) মনু গোরা এক্কাকে ঘিরে বিক্ষোভ (Protest) দেখাতে শুরু করেন। ধৃত চিকিৎসকের লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশন (Registration) বাতিলের দাবিতে সরব হন নার্সরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান ইটাহার থানার আইসি (IC) অভিষেক তালুকদার এবং বিডিও (BDO) দিব্যেন্দু সরকার। পুলিশ যখন ধৃতকে উদ্ধার করে নিয়ে যাচ্ছিল, তখন উত্তেজিত জনতা তাঁকে বেধড়ক মারধর করে। পুলিশ ভাঙা অবস্থায় ওই কলম-ক্যামেরা এবং চিকিৎসকের গাড়ি ও ব্যাগ বাজেয়াপ্ত (Seized) করেছে। জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক বা সিএমওএইচ-এর (CMOH) নির্দেশে গঠিত তিন সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (Investigation Committee) ইতিমধ্যেই বিভাগীয় তদন্তের রিপোর্ট জমা দিয়েছে।
