দেশের খবর
ড্রাগন রুখতে ইন্দো-প্যাসিফিকে নতুন সমীকরণ! ভারত ও নিউ জিল্যান্ডের মধ্যে ১৮টি মেগা চুক্তি
ডিজিটাল ডেস্কঃ দীর্ঘ ৪০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নিউজিল্যান্ডের (New Zealand) মাটিতে পা রাখলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। অকল্যান্ডে তাঁকে দেওয়া হল বিশেষ রাজকীয় অভ্যর্থনা (Royal Welcome)। মাওরি জনজাতির ঐতিহ্যবাহী ‘পাওহিরি’ (Powhiri) অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্বাগত জানানো হয় প্রধানমন্ত্রীকে।
এই সফরকে ঘিরে ভারত-নিউজিল্যান্ড সম্পর্কের (India-New Zealand Relations) ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন (Christopher Luxon) নিজে বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে মোদিকে স্বাগত জানান।
দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, কৃষি, শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মোট ১৮টি বিষয়ে সমঝোতা (Agreement) ও ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১০টি সমঝোতা স্মারক (MoU) এবং ৮টি বড় ঘোষণা। দুই দেশ ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য (Bilateral Trade) উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। বস্ত্র, চামড়া, গয়না-সহ শ্রমনির্ভর শিল্পে শুল্ক সুবিধা এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) কার্যকর করার বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে।
তবে এই সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে উঠে এসেছে ইন্দো-প্যাসিফিক (Indo-Pacific) অঞ্চলে কৌশলগত সহযোগিতা। ভারত ও নিউজিল্যান্ড জানিয়েছে, তারা একটি মুক্ত, উন্মুক্ত এবং স্থিতিশীল অঞ্চল গড়ে তুলতে একসঙ্গে কাজ করবে। প্রতিরক্ষা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দুই দেশ তথ্য আদান-প্রদান, যৌথ মহড়া এবং লজিস্টিক সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রয়োজনে দুই দেশের নৌবাহিনী একে অপরকে প্রয়োজনীয় রসদ সহায়তাও দিতে পারবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্দো-প্যাসিফিকে চিনের (China) বাড়তে থাকা প্রভাবের মধ্যে ভারত-নিউজিল্যান্ডের এই সহযোগিতা একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বার্তা বহন করছে। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গেও ভারতের একই ধরনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা রয়েছে। কৃষি ও দুগ্ধ শিল্পেও নতুন সহযোগিতার পথ খুলেছে। কিউইফল উৎপাদন বাড়াতে নাগাল্যান্ড ও উত্তরাখণ্ডে উৎকর্ষ কেন্দ্র (Centre of Excellence) তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পর্যটন, ক্রীড়া এবং সংস্কৃতি ক্ষেত্রেও দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।
প্রধানমন্ত্রী মোদি বৈঠকে বলেন, ভারত ও নিউজিল্যান্ড ‘স্বাভাবিক অংশীদার’ (Natural Partners)। দুই দেশের অভিন্ন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক আস্থা ভবিষ্যতের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
