দেশের খবর
হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলা! পাল্টা বিধ্বংসী গোলাবর্ষণ ও যুদ্ধ ঘোষণা আমেরিকার
ডিজিটাল ডেস্কঃ হরমুজ প্রণালীতে (Strait of Hormuz) পণ্যবাহী জাহাজে ইরানের নতুন করে হামলার জবাবে পাল্টা বিধ্বংসী বিমান ও গোলাবর্ষণ (Airstrikes and Shelling) শুরু করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় তীব্র যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে।
মার্কিন সেনার সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাইপ্রাসের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ (Commercial Vessel) ‘এমভি জিএফএস গ্যালাক্সি’-র ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড (IRGC)। হামলায় জাহাজটির ইঞ্জিন রুম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ক্রু সদস্যরা প্রাণ বাঁচাতে লাইফবোটে আশ্রয় নেন। আক্রান্ত জাহাজটিতে ১১ জন ভারতীয় নাগরিক ছিলেন, যাদের মধ্যে ১০ জনকে ওমান দূতাবাসের সহায়তায় উদ্ধার করা সম্ভব হলেও একজন নাবিক এখনও নিখোঁজ (Missing) রয়েছেন। ভারত এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক জলপথে অবাধ নৌচলাচল বজায় রাখার দাবি জানিয়েছে।
আমেরিকার এই আগ্রাসনের জবাবে ইরানও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে হরমুজ প্রণালী অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ (Indefinite Closure) ঘোষণা করেছে। তেহরানের স্পষ্ট দাবি, এই অঞ্চলে মার্কিন হস্তক্ষেপ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কোনো বাণিজ্যিক জাহাজকে চলাচল করতে দেওয়া হবে না। মার্কিন হামলার জবাবে জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে পাল্টা ড্রোন হামলা চালিয়ে কমান্ড সেন্টার ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরান।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর দু’মাসের একটি সংঘর্ষবিরতি (Ceasefire) চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু ইরানের লাগাতার ট্যাঙ্কার হামলার জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) সেই যুদ্ধবিরতির ইতি ঘোষণা করেছেন। অন্যদিকে, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি শহীদদের রক্তের প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। ওয়াশিংটন স্পষ্ট জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কূটনৈতিক আলোচনা চললেও হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের (International Trade) জন্য উন্মুক্ত না করলে ইরানকে আরও কড়া মাশুল গুনতে হবে।
