ভাইরাল খবর
বিজ্ঞানের দুনিয়ায় বাঙালির বড় সাফল্য! নতুন ব্যাকটেরিয়ার আবিষ্কার রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের
ডিজিটাল ডেস্কঃ অণুজীব বিজ্ঞান বা মাইক্রোবায়োলজি (Microbiology) গবেষণার হাত ধরে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করল রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় (Raiganj University)। দীর্ঘ প্রায় তিন বছরের নিরলস গবেষণার পর সম্পূর্ণ নতুন প্রজাতির একটি ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা। তবে সবচেয়ে গর্বের বিষয় হলো, দেশনেতা ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে তাঁর নামানুসারেই এই ব্যাকটেরিয়াটির নামকরণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘সেককোড’ (SeqCode) রেজিস্ট্রিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এটিকে ‘মাইক্রোমনোস্পোরা শ্যামাপ্রসাদি’ (Micromonospora shyamaprasadii sp. nov.) নামে নথিবদ্ধ বা রেজিস্টার্ড (Registered) করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরিকালচার বিভাগের (Sericulture Department) সহযোগী অধ্যাপক ডঃ অমিতকুমার মণ্ডল এবং তাঁর গবেষক দল তুঁত গাছের মূলের চারপাশের সক্রিয় মাটির অংশ বা রাইজোস্ফিয়ার (Rhizosphere) থেকে এই নতুন প্রজাতির ব্যাকটেরিয়াটিকে আলাদা করতে সক্ষম হয়েছেন। প্রধান গবেষক ডঃ অমিত মণ্ডলের মতে, এই মাটির অংশটি নির্বাচন করার পেছনে একটি গভীর প্রতীকী তাৎপর্য রয়েছে; কারণ এই মাটি বাংলার সেই মাটিকে প্রতিনিধিত্ব করে যা রক্ষার জন্য শ্যামাপ্রসাদ আজীবন সংগ্রাম করেছিলেন। বিজ্ঞান মহলে ‘মাইক্রোমনোস্পোরা’ গণটি (Genus) বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসোপযোগী বায়োঅ্যাকটিভ যৌগ (Bioactive Compounds) এবং জীবনদায়ী উৎসেচক বা এনজাইম (Enzymes) তৈরির জন্য অত্যন্ত পরিচিত।
গবেষকদের আশা, নতুন আবিষ্কৃত এই ব্যাকটেরিয়াটি থেকে প্রচুর পরিমাণে কার্যকরী অ্যান্টিবায়োটিক (Antibiotic) তৈরি করা সম্ভব হবে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞান ও কৃষিক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সাড়া ফেলবে। এই যৌথ গবেষণায় (Collaborative Research) অমিতবাবু ছাড়াও শামিল ছিলেন পঙ্কজ মণ্ডল, ঋত্বিক মণ্ডল, শুভজিৎ সাউ, দীপাঞ্জন দাস, রোহিণী থাপা এবং সাগ্নিক গুহ। পাশাপাশি অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক প্রদীপ কুমার দাস মহাপাত্র এবং সেরিকালচার বিভাগের অন্য সদস্যদের অবদানও অনস্বীকার্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিয়রঞ্জন সভাঘরে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে উপাচার্য (Vice-Chancellor) ডঃ অর্ণব সেন আনুষ্ঠানিকভাবে এই নতুন ব্যাকটেরিয়ার নাম ঘোষণা করে সমগ্র গবেষক দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এক দশক পার করা রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই কৃতিত্ব বিশ্ববিজ্ঞানের দরবারে বাংলার নামকে আরও উজ্জ্বল করল।
