কলকাতা
বৃদ্ধাশ্রমে অমানবিকতা! মারধর, হুমকির শিকার ষাটোর্ধা মহিলা
ডিজিটাল ডেস্কঃ স্বামীর মৃত্যুর পর একমাত্র ছেলের সংসারেই থাকার কথা ছিল শর্মিষ্ঠা মুস্তাফির। উত্তর কলকাতার হাতিবাগানে তাঁদের নিজের বাড়ি থাকলেও, সেখানে জায়গা হয়নি মায়ের। ছেলের সংসারে হয়ে পড়েছিলেন অবাঞ্ছিত। শেষ পর্যন্ত তাঁকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় মধ্যমগ্রামের দিগবেড়িয়ার একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন বৃদ্ধাশ্রমে। মাসিক ৬ হাজার টাকার বিনিময়ে শুরু হয় তাঁর আশ্রমবাস। পরে ছেলের পক্ষ থেকে এককালীন ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়, এর পর আর কোনও খরচ বহন করা সম্ভব নয়।
কিন্তু সেই বৃদ্ধাশ্রমও তাঁর কাছে আশ্রয় হয়ে ওঠেনি, বরং হয়ে ওঠে এক বিভীষিকা। শর্মিষ্ঠার অভিযোগ, সেখানে তাঁকে দিয়ে পরিচারিকার মতো কাজ করানো হতো। রান্না, বাসন মাজা থেকে শুরু করে একাধিক শারীরিক পরিশ্রমের কাজ করতে বাধ্য করা হতো। শুধু বৃদ্ধাশ্রমেই নয়, আশ্রমের মালিক নীপা রায় সরকার তাঁকে নিজের বাড়িতেও নিয়ে গিয়ে কাজ করাতেন বলে অভিযোগ। প্রতিবাদ করলে মারধর করা হতো, দেওয়া হতো প্রাণনাশের হুমকিও। এমনকি, তাঁকে বিষাক্ত ওষুধ খাইয়ে খুনের চেষ্টার অভিযোগও ওঠে নীপা রায়ের বিরুদ্ধে।
আরও পড়ুনঃমদের আড্ডায় ভয়ংকর পরিণতি, বন্ধুর হাতে প্রাণ গেল যুবকের
এই অমানবিক অত্যাচার আর সহ্য করতে না পেরে, শেষ পর্যন্ত সোমবার, বৃদ্ধাশ্রম থেকে পালিয়ে মধ্যমগ্রাম থানার দ্বারস্থ হন শর্মিষ্ঠা। পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগও দায়ের করেন তিনি। আপাতত বৃদ্ধাশ্রমের এক প্রাক্তন কর্মী সঞ্জীব বাগের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। শর্মিষ্ঠার বক্তব্য, “ছেলের বাড়ির চেয়ে এখানেই আমি ভালো আছি। সঞ্জীব আমাকে মায়ের মতো দেখাশোনা করে।”
অন্যদিকে, ছেলের অভিযোগ, “মা বাড়িতে থাকলে নানা সমস্যা তৈরি করতেন। গ্যাস জ্বালিয়ে রাখতেন, যা দুর্ঘটনার কারণ হতে পারত। এমনকি, বাড়িতে বসে মদ্যপান করতেন। মা যদি নিশ্চয়তা দেন যে, এসব আর করবেন না, তাহলে তাঁকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আমার কোনও আপত্তি নেই।”
এখন দেখার, পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে শর্মিষ্ঠার অভিযোগের সত্যতা কতটা প্রমাণিত হয় এবং তাঁকে তাঁর ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয় কি না।
