দেশের খবর
যুদ্ধের ময়দান ছেড়ে এবার বাড়ির পথে, উষ্ণ সংবর্ধনায় আপ্লুত বীর সৈনিক
ডিজিটাল ডেস্কঃদেশের সীমানা রক্ষা করতে ২৪ বছর ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম। দিল্লির সংসদ ভবনে জঙ্গি হামলায় বুক চিতিয়ে লড়াই, সিয়াচেন গ্লেসিয়ারের অতিরিক্ত ঠান্ডা হোক বা রাজস্থানের প্রখর গরম—সব জায়গাতেই দেশের সেবায় নিযুক্ত ছিলেন তিনি। এবার অবসর নিয়ে ঘরে ফিরলেন আর্মি জুনিয়র কমিশন অফিসার রিয়াজ আনসারি। আর তাঁকে বীরের সম্মান জানাতে বলরামপুরবাসীর উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।
বুধবার সকালে পুরী-নিউ দিল্লি পুরুষোত্তম এক্সপ্রেস থেকে বলরামপুর স্টেশনে নামতেই স্থানীয়রা তাঁকে সংবর্ধনা জানান। গলায় মালা পরিয়ে, জাতীয় পতাকা দিয়ে সুসজ্জিত গাড়িতে করে গোটা বলরামপুর বাজার ঘোরানো হয় তাঁকে। সেলফি তোলার হুড়োহুড়ি, করমর্দন, আবেগমাখা উচ্ছ্বাস—সব মিলিয়ে যেন এক উৎসবের আবহ। নিজেও এই ভালোবাসায় আপ্লুত রিয়াজ আনসারি। বললেন, “এভাবে যে সংবর্ধনা পাব, ভাবিনি। মনে হচ্ছে সত্যিই কিছু কাজ করে বাড়ি ফিরেছি।”
আরও পড়ুনঃ বৃদ্ধাশ্রমে অমানবিকতা! মারধর, হুমকির শিকার ষাটোর্ধা মহিলা
২০০১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন রিয়াজ। সেই বছরই সংসদ ভবনে জঙ্গি হামলায় লড়েছিলেন সামনে থেকে। ২০০২ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত নাসিকের আর্টিলারি সেন্টারে কর্মরত ছিলেন। এরপর জম্মু-কাশ্মীরের লাইন অফ কন্ট্রোলে নজরদারির দায়িত্ব পান। ভারতীয় সেনার রাষ্ট্রীয় রাইফেলে দুবার নিয়োগ পেয়ে বিভিন্ন কাউন্টার ইনসার্জেন্সি অপারেশনে অংশ নেন।
বিশ্বের উচ্চতম যুদ্ধক্ষেত্র সিয়াচেনে অপারেশন মেঘদূত-এ অংশ নিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, রাজস্থানের রণভূমিতেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এই কৃতিত্বের জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে পেয়েছেন একাধিক পদক ও সম্মান।
অবশেষে, তোপখানা নাসিক রোড ক্যাম্পের ইনস্ট্রাক্টর পদ থেকে অবসর নিলেন রিয়াজ আনসারি। কিন্তু বলরামপুরবাসীর চোখে তিনি আজও বীর।
