কোচবিহার
চুরি থেকে খুন- সবেতেই ফাল্গুনীর অপরাধমনস্কতার প্রমান
একসময় চুরির অভিযোগে হাজতবাস করতে হয়েছিল।আর আজ সেই তিনিই হয়ে উঠলেন খুনী।যে খুনে ছাপ মেলে পেশাদারিত্বের। অসম থেকে শিলিগুড়ি হয়ে বর্তমানে ফাল্গুনী ঘোঢ থাকতেন মধ্যমগ্রামের বীরেশপল্লী এলাকায় ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে তার মা আরতি ঘোষের সঙ্গে ভাড়া বাড়ীতে। স্বামী শুভঙ্কর ঘোষ থাকেন অসমের জোড়হাটে। সেখানেই বৈদ্যুতিন সামগ্রীর দোকান রয়েছে ফাল্গুনীর স্বামীর।
আফগানিস্তানের ব্রিটিশ শাসন, ৩২৫/৭ আফগানিস্তান
সালটা ২০২১, জুলাই মাসে শিলিগুড়ির সুভাষপল্লিতে মামাশ্বশুরের বাড়িতে স্বামীর সঙ্গে গিয়েছিল ফাল্গুনী। মাসখানেক মামাশ্বশুরের বাড়ীতে ছিল দুজনে। কিন্তু তারা বাড়ি ফেরার পর মামাশ্বশুর দেখতে পান ঘরের আলমারি থেকে উধাও সোনার চেন-সহ বেশ কিছু অলঙ্কার।উধাওও নগদ ২৫ হাজার টাকাও।ঘটনা নজরে আসতেই ২০২১ সালের ১৩ই আগস্ট শিলিগুড়ি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ফাল্গুনীর মামাশ্বশুর।
দুই জেলার ডিপিএসসির চেয়ারম্যানকে জেলে পাঠানোর হুঁশিয়ারি বিচারপতি রাজশেখর মান্থা-র
তদন্তে নেমে পুলিশ ফাল্গুনী ও তার স্বামীকে জিজ্ঞাসাাবাদ করে। একটানা পুলিশি জেরায় চুরির কথা স্বীকার করে নেয় ফাল্গুনী। সেই চুরির অভিযোগে চারদিন জেল হেফাজতেও থাকতে হয়েছিল ফাল্গুনীকে। যদিও পরে জামিনে মুক্তি পায় সে।বর্তমানে ফাল্গুনীর সঙ্গে তার স্বামীর বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা চলছে আদালতে।মামা শ্বশুরের বাড়ি চুরির পর এবার পিসিশাশুড়িকে খুনের পর সেই দেহ খণ্ড করে ট্রলিব্যাগে ভরে লোপাটের চেষ্টা।কতটা নৃশংস অপরাধমনস্ক হলে দেহ খন্ড করে সেই টুকরো দেহ ট্রলি ব্যাগে ভরে গঙ্গার জলে ভাসিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে মধ্যমগ্রাম থেকে আহিরিটোলা পর্যন্ত আসা যায়!কিন্তু কুমোরটুলির আহিরিটোলা ঘাটকে তারা বেছে নিয়েছিলেন কেন?তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে ফাল্গুনী ঘোষের মা আরতি ঘোষের ছোটবেলা কেটেছে এই আহিরিটোলায়।
পিসি শাশুড়িকে খুন-দেহ লোপাটের চেষ্টা,ধৃত মা ও মেয়ের জেল হেফাজত
ফলে এই এলাকা পরিচিত হওয়ার কারনে তারা এতটা পথ ট্যাক্সিতে করে মৃতদেহ ভরা ট্রলিব্যাগ নিয়ে আসে।ধরা পরার পর তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছিল বারাসাত থেকে শিয়ালদহ পর্যন্ত ট্রেনের টিকিট।সেই টিকিটও ছিল সোমবারের।তাহলে কি সোমবার ট্রেনে করে দেহ নিয়ে আসার পরিকল্পনা করেছিল মা ও মেয়ে?নাকি বিভ্রান্ত করতে এমন পরিকল্পনা?সব বিষয়ই তদন্তের আওতায় রেখেছে পুলিশ।তবে ওই যে বলে বিধি বাম।আহিরিটোলা ঘাটে পৌঁছে ব্যাগ গঙ্গার জলে ফেলতে গিয়ে ধরা পরে গেলেন মা মেয়ে।আপাতত এই ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাবে মধ্যমগ্রাম থানার পুলিশ,সেকথা বুধবার জানিয়ে দিয়েছে আদালত।কিন্তু তদন্তে নেমে প্রাথমিকভাবে পুলিশ ফাল্গুনীর অপরাধমনস্কতারই প্রমান পাচ্ছে।এতবড় অপরাধ সংগঠিত করেও কার্যত নিরুত্তাপ ফাল্গুনী ঘোষ।
