দুর্ঘটনা
সীমান্তে জুলুম! ছাগল চরাতে গিয়ে বিএসএফ-এর মারধরের শিকার মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি
ডিজিটাল ডেস্কঃ মানসিক ভারসাম্যহীন এক ব্যক্তিকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছনার অভিযোগে ফের প্রশ্নের মুখে সীমান্ত রক্ষী বাহিনী। সীমান্তে নিরাপত্তা বলয়ে কর্মরত জওয়ানদের বিরুদ্ধে নিরীহ এক গ্রামবাসীর ওপর অপ্রয়োজনে বলপ্রয়োগের অভিযোগ উঠতেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।
শুক্রবার সকালে দিনহাটা ২ নম্বর ব্লকের নাজিরহাট ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের দলবাড়ি এলাকায় ১৬২ নম্বর বিএসএফ ক্যাম্পের সামনে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। আক্রান্ত ব্যক্তির নাম শিবু বর্মন। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শিবু একজন মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তি। প্রতিদিনের মতো এদিনও ছাগল চরাতে সীমান্ত লাগোয়া মাঠে গিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় কিছু বিএসএফ জওয়ান তাঁকে ‘সন্দেহজনক ভাবে ঘোরাঘুরি’ করার অভিযোগে মারধর করেন বলে অভিযোগ।
আরও পড়ুনঃ মায়ের হাতে সন্তানের মৃত্যু, বাড়ির ট্যাঙ্কে মিলল শিশুর দেহ
দেখতে পেয়ে আশপাশের গ্রামবাসীরা চিৎকার শুরু করলে ঘটনাস্থলে তড়িঘড়ি পৌঁছায় নাজিরহাট পুলিশ ক্যাম্পের আধিকারিকরা। গুরুতর আহত অবস্থায় শিবুকে উদ্ধার করে দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর মাথা ও পিঠে আঘাত রয়েছে, শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলেও নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
ঘটনার পর থেকেই দলবাড়ি এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বহু গ্রামবাসী জড়ো হয়ে বিএসএফ-এর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেন, “শিবু তো বছরের পর বছর ধরে এখানেই ছাগল চরায়, সবাই জানে ওর মানসিক সমস্যা আছে। এরপরেও ওকে এভাবে মারধর করাটা অমানবিক। বিএসএফ জওয়ানরা প্রায়শই নিরীহ মানুষদের সন্দেহের চোখে দেখে, মারধর করে। আমাদের জীবনে একরকম আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে বিএসএফ।”
বিএসএফের তরফে অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। বাহিনীর তরফে এক মুখপাত্র জানান, “ওই ব্যক্তি আচরণে সন্দেহজনক ছিল, সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে আমাদের কিছু ব্যবস্থা নিতে হয়েছিল।” তবে কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগপত্র এখনও পর্যন্ত পুলিশের কাছে দায়ের হয়নি বলে জানানো হয়েছে।
