উত্তর দিনাজপুর
অপহৃতের উদ্ধার করতে গিয়ে বেরিয়ে এলো খুনের ঘটনার রহস্য, শোরগোল এলাকাজুড়ে
নিজস্ব সংবাদদাতা , রায়গঞ্জ , ২৯ মে : অপহরণের ঘটনার তদন্তে নেমে অপহরণকারী ও অপহৃত ব্যক্তি দুজনকেই কালচিনির আফিম পাচারকারী খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার করল রায়গঞ্জ থানার পুলিশ।
পুলিশসুত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতরা হল অপহরণকারী সুজন বিশ্বাস এবং অপহৃত মদন শর্মা। জানা গিয়েছে, গত জানুয়ারি মাসে উত্তর দিনাজপুর জেলার করনদিঘী থানার বাসিন্দা পেশায় লড়ি চালক মদন শর্মা ও তার সঙ্গী সুজন বিশ্বাস লড়ি নিয়ে আলিপুরদুয়ারের কালচিনি যায়। পথে হরিয়ানার এক আফিং পাচারকারীকে গাড়িতে তোলার পরে তাকে খুন করে। ঘটনার তদন্তে নেমে সুজনকে গ্রেপ্তার করে কালচিনি থানার পুলিশ। তার তিন মাস জেলও হয়। এদিকে অপর অভিযুক্ত মদন শর্মা গা ঢাকা দিয়ে রায়গঞ্জে এসে বসবাস শুরু করে। তিনমাস জেল খেটে আসার পর সুজন করনদিঘীতে ফিরে এসে মদনের সাথে যোগাযোগ করে রায়গঞ্জের ভাঙাবাড়ি এলাকায় ডেকে নেয়।এরপর থেকেই তার আর খোঁজ মেলেনি। এই ঘটনা নিয়ে মদন শর্মার পরিবারের পক্ষ থেকে রায়গঞ্জ থানায় সুজনের বিরুদ্ধে মদনকে অপহরণ ও পাঁচ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ চাওয়ার অভিযোগ দায়ের করা হয়। ঘটনার তদন্তে তদন্তে নেমে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ শুক্রবার রাতে করনদিঘী থানার রসাখোয়া এলাকার ভোপালহাট থেকে অপহৃত মদন শর্মাকে উদ্ধার করা হয়।অপহরণকারী সুজন বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ।এরপরেই পুলিশী জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে আলিপুরদুয়ারের কালচিনির আফিং পাচারকারী খুনের ঘটনার বিষয়টি। এই খুনের ঘটনায় সুজন বিশ্বাস ও মদন শর্মা দুজনেই যুক্ত ছিল। পুলিশ ধৃত মদন শর্মা ও সুজন বিশ্বাসকে শনিবার রায়গঞ্জ আদালতে পেশ করে।এই বিষয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার যশপ্রীত সিং জানান, শনিবার স্বামীকে অপহরণের অভিযোগ জানিয়ে অভিযোগ দায়ের করে মানসী শর্মা নামে এক মহিলা। ঘটনার তদন্তে নেমে অপহৃত চন্দন শর্মাকে উদ্ধারের পাশাপাশি অপহরণকারী সুজন বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে কালচিনি খুনের ঘটনার বিষয়টি সামনে আসে। তাদের রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আসছে কালচিনি থানার পুলিশ। মূলত খুনের ঘটনার পর টাকা পয়সার লেনদেন নিয়ে ঝামেলার জেরে এই অপহরণের ঘটনা বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার যশপ্রীত সিং।
