মুর্শিদাবাদ
মুর্শিদাবাদে দাঙ্গার পর ক্ষোভে ফেটে পড়লেন গ্রামবাসীরা, মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি
ডিজিটাল ডেস্কঃ মুর্শিদাবাদে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া দাঙ্গায় বিধ্বস্ত গ্রামগুলির বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের আগুন আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে, জাতীয় মহিলা কমিশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময়, এলাকাবাসী নিজেদের অবস্থা তুলে ধরতে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এদিন, মুর্শিদাবাদে একই দিনে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস এবং জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্যরা উপস্থিত হন। তাঁরা পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন এবং স্থানীয় মহিলাদের আকুতি শোনেন।
মহিলারা অভিযোগ করেন, তাদের ঘর-বাড়ি, অর্থ, এবং গৃহপালিত পশু সবকিছুই লুটে নেওয়া হয়েছে দুষ্কৃতীদের দ্বারা। আতঙ্কের মধ্য দিয়ে দিনযাপন করছেন তাঁরা, বিশেষ করে বিএসএফ বাহিনী চলে গেলে কী হবে সেই ভয় তাঁদের মধ্যে রয়েই গেছে। ক্ষুব্ধ মহিলারা সরাসরি জাতীয় মহিলা কমিশনের প্রতিনিধিদের সামনে হাত জোড় করে বলেন, “লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ চাই।”
আরও পড়ুনঃ “ভয়ে ঘুমোতে পারি না”— রাজ্যপালকে ঘিরে কাঁদলেন নিহত পরিবারের সদস্যরা
এদিকে, ধুলিয়ান এবং জাফরাবাদের বাসিন্দারা পুলিশ এবং রাজ্য সরকারের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের অভিযোগ, হামলার দিন ৪ ঘণ্টা ফোন করার পরেও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়নি। গ্রামবাসীদের মতে, পুলিশের উপস্থিতি না থাকার কারণে একাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। গ্রামবাসীরা বিশেষ করে স্থায়ী বিএসএফ ক্যাম্প এবং NIA তদন্তের দাবি জানান।
এদিন, রাজ্যপালের কাছে একই অভিযোগ ওঠে, যেখানে গ্রামবাসীরা প্রশ্ন করেন, “আমরা কর দিয়ে আপনাদের পুষছি, কিন্তু কেন আমাদের সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে না?” রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস তাদের আশ্বাস দেন, “আমি দিল্লিতে গিয়ে আলোচনা করব এবং আপনাদের সহায়তায় পাশে থাকব।” মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি ক্ষোভে ফেটে পরেন গ্রামবাসীরা তারা বলেন, “আর চাই না লক্ষ্মীভাণ্ডার,আমারা চাই মমতার পদ ত্যাগ”। রাজ্যপালের কনভয়কেও বেতবোনা অঞ্চলে দাঁড়াতে না দেওয়ার ঘটনায় বিক্ষোভ দেখা যায়। গ্রামবাসীরা রাস্তায় বসে তাঁদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন, এবং পুলিশ সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এখন মুর্শিদাবাদের এই ক্ষোভের মধ্য দিয়ে সরকার এবং প্রশাসনের উপর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি।
