“ভয়ে ঘুমোতে পারি না”— রাজ্যপালকে ঘিরে কাঁদলেন নিহত পরিবারের সদস্যরা
Connect with us

রাজ্যের খবর

“ভয়ে ঘুমোতে পারি না”— রাজ্যপালকে ঘিরে কাঁদলেন নিহত পরিবারের সদস্যরা

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ ধুলিয়ান ও বেতবোনায় রাজ্যপালের সফর ঘিরে ফের উত্তাল মুর্শিদাবাদ। একদিকে প্রশাসনিক নিরাপত্তার বলয়ে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস, অন্যদিকে রাস্তা আটকে অভিযোগ জানাতে মরিয়া স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগের কেন্দ্রে—অপরাধ, ভয় এবং নিরাপত্তার ঘাটতি। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয়, যে একাধিক জায়গায় বারবার থামাতে হয় রাজ্যপালের কনভয়।

 মালদা সফর সেরে শনিবার সকালে সোজা মুর্শিদাবাদ পৌঁছন রাজ্যপাল। প্রথমেই যান জাফরাবাদের সেই পরিবারটির কাছে, যাদের দুই সদস্য—পিতা ও পুত্র—সম্প্রতি খুন হন। তাঁদের সঙ্গে দেখা করে সান্ত্বনা জানান। অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা তাঁদের বাড়িতে চড়াও হয়ে হামলা চালায়। পরিবারের সদস্যরা কেঁদে ফেলেন রাজ্যপালের সামনে। তাঁরা বলেন, ‘‘আমরা আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছি। ওরা হুমকি দিয়েছে, এখানে থাকতে দেবে না।’’  রাজ্যপাল তাঁদের আশ্বস্ত করে বলেন, “আপনারা যদি কোনও সমস্যায় পড়েন, সরাসরি রাজভবনে যোগাযোগ করুন।” পাশাপাশি রাজভবনের ‘পিস রুম’-এর নম্বরও দিয়ে দেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ ধুলিয়ানে রাজ্যপাল, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারে পৌঁছে আশ্বাস— তৎপরতায় রাজনৈতিক চাপানউতোর

এই ঘটনার পরে যখন রাজ্যপালের কনভয় ধুলিয়ানের বিভিন্ন এলাকা অতিক্রম করছিল, তখন একাধিক জায়গায় থামিয়ে দেওয়া হয় গাড়ি। ৫ নম্বর ওয়ার্ড, ১৬ নম্বর ওয়ার্ড—একাধিক জায়গায় স্থানীয়রা রাস্তায় নেমে পড়েন। দাবি একটাই, রাজ্যপাল যেন তাঁদের এলাকাতেও আসেন, তাঁদের কথাও শোনেন। কেউ হাতে প্ল্যাকার্ড, কারও হাতে অভিযোগের তালিকা। তাঁদের বক্তব্য, এলাকায় নেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, চাই স্থায়ী বিএসএফ ক্যাম্প।  একপর্যায়ে রাজ্যপাল গাড়ি থেকে নেমে এসে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের অভিযোগ শোনেন এবং আশ্বাস দেন সমস্যা নিয়ে রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলবেন। এই সংলাপের পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।

Advertisement
ads

এদিকে বেতবোনায় যখন রাজ্যপালের কনভয় চলে যাচ্ছে, তখনই শুরু হয় বিক্ষোভ। স্থানীয় মহিলারা রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে পুলিশ তাঁদের আটকে দেয় বলে অভিযোগ। ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁরা রাস্তায় বসে পড়েন, স্লোগান তোলেন। তাঁদের অভিযোগ, “আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। প্রশাসন শুধু আশ্বাস দেয়, বাস্তব পদক্ষেপ নেয় না।”

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই সাংবাদিকদের সামনে মুখ খোলেন রাজ্যপাল। তাঁর কথায়, “আমার মূল উদ্দেশ্য, মানুষের কথা শোনা। রাজ্য সরকার যেন দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। শান্তি ফেরানোই এখন প্রধান কাজ।”

প্রসঙ্গত, মুর্শিদাবাদের জাফরাবাদে ওয়াকফ আইন সংশোধনের প্রতিবাদ ঘিরেই ছড়ায় উত্তেজনা। সেখানেই ঘটে পিতা-পুত্র খুনের ঘটনা। এখনও পর্যন্ত তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবু স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক কাটেনি। রাজ্যপালের এই সফর সেই ভীতিরই এক প্রত্যক্ষ প্রতিফলন—যেখানে মানুষ সরাসরি প্রশাসনিক উচ্চপদস্থ ব্যক্তির কাছে তাঁদের উদ্বেগ তুলে ধরেছেন।

Advertisement
ads
Continue Reading
Advertisement