ডিজিটাল ডেস্কঃ ওড়িশার পুরী (Puri) জেলায় ১৫ বছরের কিশোরীর গায়ে আগুন লাগানোর ঘটনায় নতুন মোড়। নির্যাতিতার মৃত্যুর পর প্রকাশ্যে আসা এক ভিডিও বার্তায় মৃতার বাবা দাবি করেছেন, এটি খুন নয়, তাঁর মেয়ে আত্মঘাতী হয়েছে। ভিডিওতে তিনি জানান, মেয়ের মানসিক চাপ সহ্যসীমার বাইরে চলে গিয়েছিল, তাই সে নিজেই নিজের গায়ে আগুন লাগিয়েছিল। একই সঙ্গে তিনি ওড়িশা সরকারকে (Odisha Government) ধন্যবাদ জানান পরিবারের পাশে থাকার জন্য এবং অনুরোধ করেন, ঘটনাটিকে যেন রাজনৈতিক রঙ না দেওয়া হয়।
ঘটনাটি ঘটে ১৯ জুলাই, পুরীর বালাঙ্গা এলাকায়। দগ্ধ অবস্থায় রাস্তায় দৌড়তে দেখা যায় কিশোরীকে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তাঁর মুখে ও গলায় কাপড় বাঁধা ছিল, হাতও বাঁধা অবস্থায় ছিল। তারা জানিয়েছেন, কিশোরী কষ্ট করে বলেছিল—তিনজন মিলে আগুন দিয়েছে। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে ভুবনেশ্বরের এইমসে (AIIMS Bhubaneswar) ভর্তি করেন। ২০ জুলাই এয়ারলিফ্ট করে দিল্লির এইমসে (AIIMS Delhi) পাঠানো হয়। তবে ৭৫ শতাংশ পুড়ে যাওয়া শরীর নিয়ে চিকিৎসকদের প্রাণপণ চেষ্টাও ব্যর্থ হয়। ১ অগস্ট মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাজি (Mohan Charan Majhi) কিশোরীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।
আরও পড়ুনঃ উপত্যকায় জঙ্গি হান্ট চলছে! কুলগামে ‘অপারেশন আখাল’-এ ২ জঙ্গি নিকেশ, আহত ১
ওড়িশা পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে অন্য কারও জড়িত থাকার প্রমাণ মেলেনি। যদিও কীভাবে আগুন লাগল, তা নিয়ে তারা এখনও স্পষ্ট কিছু বলেনি। অন্যদিকে, মৃতার বাবার আত্মহত্যার দাবি এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের মধ্যে তীব্র অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে।
এই ঘটনার পর রাজ্যজুড়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ ও প্রশ্ন উঠেছে। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন, যাতে সত্যিটা সামনে আসে।