আত্মহত্যা
SIR-এর চাপ সামলাতে না পেরে চরম সিদ্ধান্ত বিএলওর, সু*সাইড নোটে বিস্ফোরক অভিযোগ
ডিজিটাল ডেস্কঃ নদিয়ার কৃষ্ণনগরের ষষ্ঠীতলায় ফের আত্মহত্যা করলেন এক বিএলও (BLO – Booth Level Officer)। পার্শ্বশিক্ষক (Para-Teacher) রিঙ্কু তরফদার (৫৩), যাঁকে সম্প্রতি বিএলও-র দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, বাড়ির ঘর থেকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় উদ্ধার হন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, কম্পিউটার ব্যবহারে পারদর্শী না হওয়ায় (Computer Handling Skill) তিনি শুরু থেকেই কাজের অতিরিক্ত চাপ ও ভয়ংকর মানসিক চাপে ভুগছিলেন। ডিজিটাল ডেটা এন্ট্রি, সময়সীমা (Deadline), ক্রমাগত ফোনে নির্দেশ—সব মিলিয়ে তিনি প্রায় দমবন্ধ পরিস্থিতিতে ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে আরও তথ্য মিলেছে—মৃত্যুর আগে রিঙ্কু দেবী একটি সুইসাইড নোট (Suicide Note) লিখে রেখে যান। সেখানে উল্লেখ, “বিএলও-র কাজ তুলতে না পারলে প্রশাসনিক চাপ (Administrative Pressure) আসবে। তা আমার পক্ষে নেওয়া সম্ভব নয়।” পরিবারের দাবি, গত কয়েক দিন তিনি ঠিকমতো ঘুমোতে পারছিলেন না, টানা উদ্বেগ, ভুল হলে শাস্তির ভয়—সব মিলিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।
স্থানীয়দের মতে, চলতি সময়ে SIR (Special Summary Revision) প্রক্রিয়া ঘিরে তীব্র তাড়া চলছে, যার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের ওপর। বিপুল তথ্য সংগ্রহ, ডিজিটাল ফর্ম পূরণ, যাচাই—এসব দায়িত্বে বিএলওদের ওপর চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।
এই পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও তীব্র হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে চিঠি লিখে জানান—২০০২ সালে যেখানে SIR প্রক্রিয়া শেষ করতে ২ বছর লেগেছিল, এবার মাত্র ২ মাসের মধ্যে কাজ শেষের তাড়া কর্মীদের ওপর অস্বাভাবিক চাপ তৈরি করছে। ভুল হলে শাস্তির ভয় ও ভোটার বাদ যাওয়ার আতঙ্ক—দুই দিকের চাপেই আত্মহত্যার ঘটনা বাড়ছে বলে তাঁর দাবি।
রাজ্যের কর্মী সংগঠনগুলিও বলছে, বিভিন্ন জেলায় বিএলওরা রাতভর কাজ, সার্ভার সমস্যা (Server Issue), স্বাস্থ্যঝুঁকি—সব নিয়ে বিপর্যস্ত। “গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ হলেও, কোনও সরকারি কর্মীর প্রাণের চেয়ে বড় নয়,” মন্তব্য তাদের।
এদিকে সিইও মনোজ আগরওয়াল জানান, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতেই হবে—চাপ কিছুটা থাকবেই। তাঁর বক্তব্য, “পাশের রাজ্য বিহারেও SIR হয়েছে, আমরা পারব না এমন নয়।” তাঁর মতে, অধিকাংশ বুথে (Booth) ভোটারের সংখ্যা ৮০০-র কাছাকাছি, তাই বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করেই এগোতে হবে।


