ধর্ম
দিঘায় ঐতিহাসিক মুহূর্ত, বুধবার খুলছে জগন্নাথ মন্দিরের দ্বার
ডিজিটাল ডেস্কঃ সমুদ্রসৈকতের শহর দিঘা এখন উৎসবের আবহে ভাসছে। মাঙ্গলিক সানাইয়ের সুরে মুখরিত শহর। তারই মধ্যে সোমবার দিঘায় পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অক্ষয় তৃতীয়ার পুণ্য লগ্নে রাজ্যের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় স্থাপনার, জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধন ঘিরে চরম উত্তেজনা।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানালেন, মঙ্গলবার মহাযজ্ঞের আয়োজন থাকবে। আর বুধবার, অর্থাৎ ৩০ এপ্রিল, দুপুর আড়াইটে থেকে তিনটার মধ্যে মন্দিরের দ্বারোদ্ঘাটন এবং বিগ্রহের প্রাণপ্রতিষ্ঠার অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে।
রবিবার বিকেল থেকেই পুরীর রীতি মেনে দিঘার নতুন মন্দির চত্বরে শুরু হয়েছে বিশেষ যজ্ঞ। তৈরি হয়েছে অস্থায়ী আটচালা যেখানে চলছে নিয়মমাফিক দুই বেলা পুজো এবং হোম। পুরী জগন্নাথ মন্দির থেকে আসা ৫৭ জন সেবক এবং ইসকনের ১৭ জন সাধুর নেতৃত্বে চলা এই মহাযজ্ঞে ব্যবহৃত হচ্ছে প্রায় ১০০ কুইন্টাল আম-বেলকাঠ ও ২ কুইন্টাল ঘি।
আরও পড়ুনঃ ‘নয়নপথগামী, তুমি জগন্নাথস্বামী’ , মন্দির উদ্বোধনের আগে গান লিখলেন মমতা
দিঘার জগন্নাথ মন্দির নির্মিত হয়েছে রাজস্থানের গোলাপি বেলেপাথরে। প্রায় ৮০০ রাজস্থানী কারিগরের হাতের ছোঁয়ায় গড়ে উঠেছে এই অনুপম সৌধ। মন্দিরের স্থাপত্যে স্পষ্ট পুরী মন্দিরের ছায়া। প্রধান প্রবেশপথ সিংহদ্বারের সামনেই ৩৪ ফুট লম্বা, ১৮ মুখী কালো পাথরের অরুণ স্তম্ভ, যার চূড়ায় অরুণা মূর্তি। মূল মন্দিরে প্রবেশ করলেই সোজাসুজি দর্শন মিলবে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার বিগ্রহের।
মন্দির প্রাঙ্গণে রয়েছে আরও তিনটি প্রবেশদ্বার — উত্তরে হস্তিদ্বার, দক্ষিণে অশ্বদ্বার এবং পূর্বের বিপরীতে ব্যাঘ্রদ্বার। প্রথমেই রয়েছে ভোগ মণ্ডপ, তারপর নাটমন্দির, জগমোহন এবং শেষে গর্ভগৃহ, যেখানে দেবতাদের মূর্তিগুলি বিরাজ করবে। নাটমন্দিরের দেওয়ালে কালো পাথরে খোদাই করা দশাবতার মূর্তিগুলিও বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
মন্দিরের অন্যতম বৈশিষ্ট্য — প্রতিদিন নিয়ম করে পতাকা পরিবর্তন করা হবে, পুরীর রীতিতে। সেই দায়িত্বও সামলাবেন পুরীর থেকে আসা বিশেষ প্রশিক্ষিত কর্মীরা।
পাথরের তৈরি জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার মূর্তি মন্দিরে থাকলেও, প্রতিদিনের পুজো হবে নিমকাঠের তৈরি বিশেষ বিগ্রহে। বুধবার এই বিগ্রহগুলিরই মহা প্রাণপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে খুলে যাবে দিঘার এই ঐতিহাসিক মন্দিরের দ্বার।
