বাংলাদেশ
ভোট দিতে পারবেন না হাসিনা, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে তোলপাড়
ডিজিটাল ডেস্কঃ বদলের বাংলাদেশে (Changing Bangladesh) এবার ‘বদলা’র (revenge) নতুন অধ্যায়। দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)-র ভোটাধিকার (voting rights) কেড়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (Election Commission)।
এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শেখ হাসিনার জাতীয় পরিচয়পত্র (National ID/NID) ‘লক’ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে দিল্লিতে বসে তিনি আর ভোট দিতে পারবেন না। শুধু তিনিই নন, তাঁর পরিবার— বোন শেখ রেহানা (Sheikh Rehana), পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় (Sajeeb Wazed Joy) এবং কন্যা সাইমা ওয়াজেদ পুতুল (Saima Wazed Putul)-এর পরিচয়পত্রও ‘লক’ করে দিয়েছে কমিশন।
ভোটের অধিকার হারালেন চারজন
এই মুহূর্তে শেখ হাসিনা ও রেহানা রয়েছেন দিল্লিতে (Delhi), আর জয় ও পুতুল অবস্থান করছেন আমেরিকায় (USA)। ফলে আসন্ন ফেব্রুয়ারির (February) সাধারণ নির্বাচনে (General Election) ভোট দেওয়া তাঁদের পক্ষে আর সম্ভব নয়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে দেশে ঘটে যাওয়া গণ-অভ্যুত্থানের (mass uprising) পর ক্ষমতা হারিয়ে শেখ হাসিনা বর্তমানে দিল্লির রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন। সেই সময়কার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের (Asaduzzaman Khan Kamal) বিরুদ্ধে ‘জুলাই গণহত্যা’ (July Massacre)-র মামলা চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (International Criminal Court)।
বিচারপ্রক্রিয়া চলায় হাসিনা দেশে ফিরলে গ্রেপ্তারের (arrest) সম্ভাবনা প্রবল। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপ তাঁকে নাগরিকত্ব (citizenship) থেকে সরানোর পথ সুগম করছে বলেই মনে করছেন অনেকেই।
নিষিদ্ধ আওয়ামি লিগ ও ছাত্র লীগ
এদিকে, বর্তমান ইউনুস সরকারের (Yunus Government) অধীনে আওয়ামি লিগ (Awami League) এবং ছাত্র লিগ (Chhatra League)-এর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। রাজনৈতিক কার্যকলাপ নিষিদ্ধ, গ্রেপ্তার হচ্ছেন একের পর এক নেতা-কর্মী।
প্রশ্ন উঠছে: গণতন্ত্র না স্বৈরতন্ত্র?
এই অবস্থায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ প্রশ্ন তুলছেন— শেখ হাসিনার ‘স্বৈরাচারী’ তকমা ঘোচাতে গিয়ে বাংলাদেশ কি আরও একবার স্বৈরতন্ত্রের (authoritarianism) দিকেই এগোচ্ছে?
জনগণের ভোটাধিকার, নাগরিক অধিকার ও নির্বাচনী স্বচ্ছতার নামে যদি ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা বাস্তবায়িত হয়, তবে বদলের বাংলাদেশ কী সত্যিই নতুন পথ দেখাতে পারবে— এই নিয়েই এখন আন্তর্জাতিক মহলে জোর বিতর্ক।


