‘অজুহাত নয়, ব্যবস্থা নিন’— ভবেশচন্দ্র খুনে বাংলাদেশকে হুঁশিয়ারি দিল্লির
Connect with us

খুন

‘অজুহাত নয়, ব্যবস্থা নিন’— ভবেশচন্দ্র খুনে বাংলাদেশকে হুঁশিয়ারি দিল্লির

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের এক নেতাকে অপহরণ করে খুন করার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাল ভারত। দিনাজপুরের বাসুদেবপুর গ্রামের বাসিন্দা ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের বিরাল শাখার সহ-সভাপতি ভবেশচন্দ্র রায়ের হত্যাকাণ্ড নিয়ে শনিবার কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রক কড়া ভাষায় বিবৃতি দিয়েছে।

ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক্স-এ (প্রাক্তন টুইটার) লিখেছেন, “বাংলাদেশে হিন্দু নেতা ভবেশচন্দ্র রায়কে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে সংখ্যালঘুদের উপর লাগাতার আক্রমণের এক ভয়াবহ উদাহরণ। এত ভয়াবহ ঘটনার পরও হত্যাকারীরা এখনও প্রকাশ্যে ঘুরছে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই — বাহানা নয়, এবার প্রয়োজন কঠোর পদক্ষেপ। ভেদাভেদ না করে হিন্দু-সহ সমস্ত সংখ্যালঘু নাগরিকের সুরক্ষা নিশ্চিত করুন।”

Advertisement
ads

জানা গিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ ভবেশচন্দ্র রায়ের কাছে একটি ফোন আসে। অচেনা সেই ফোনকলে জিজ্ঞেস করা হয়, তিনি বাড়িতে আছেন কি না। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই দু’টি বাইকে করে চারজন দুষ্কৃতী তাঁর বাড়িতে আসে। জোর করে তাঁকে তুলে নিয়ে গিয়ে নরাবাড়ি গ্রামে বেধড়ক মারধর করে। পরে নিথর দেহ বাড়ির সামনে ফেলে রেখে চম্পট দেয় তারা। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশে হিন্দু নেতার খুন: অপহরণের পর পিটিয়ে হত্যা, বাড়ছে সংখ্যালঘুদের মধ্যে আতঙ্ক

এই নির্মম ঘটনার পরে ফের চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে বাংলাদেশের হিন্দুদের মধ্যে। নিহতের স্ত্রী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিরাল থানার ওসি আবদুস সবুর জানিয়েছেন, “ঘটনার তদন্ত চলছে। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য তল্লাশি শুরু হয়েছে।”

প্রসঙ্গত, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলার অভিযোগ ক্রমশ বেড়েছে। একাধিক রিপোর্ট অনুযায়ী, এই সময়ে অন্তত ৩২ জন হিন্দুকে হত্যা করা হয়েছে, ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৩ জন সংখ্যালঘু মহিলা, ভাঙচুর চালানো হয়েছে ১৩৩টি মন্দিরে।

Advertisement
ads

নতুন করে ভবেশচন্দ্র রায়ের নৃশংস হত্যাকাণ্ড সেই আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিল। আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ ইতিমধ্যেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে। দিল্লির সাফ বার্তা— মানবাধিকারের প্রশ্নে কোনওরকম ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না।