নিখোঁজ
অনুপ্রবেশ, কারাবাস, আর শেষ পর্যন্ত মৃত্যু—বিজলি রায়ের করুণ পরিণতি
ডিজিটাল ডেস্কঃ ২০২১ সালের জুন মাসে অনুপ্রবেশের দায়ে আটক হয়েছিলেন বিজলি রায়। সাজা শেষ হলেও মানসিক ভারসাম্যহীন এই বিজলি রায়কে পরিবারের কাছে ফেরানো যাচ্ছিল না, কারণ তাঁর আত্মীয়দের কোনো খোঁজ মিলছিল না। শেষ পর্যন্ত সাংবাদিক শামসুল হুদার প্রচেষ্টায় তাঁর পরিবারের সন্ধান পাওয়া গেলেও, ততক্ষণে বিজলি রায় আর জীবিত ছিলেন না। দীর্ঘ দুই মাস রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে থাকার পর, অবশেষে তাঁর মরদেহ স্বদেশে ফেরানো হলো।
শুক্রবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বিজলি রায়ের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। রাজশাহীর জেল সুপার রত্না রায় জানান, সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গ থেকে মরদেহ বের করে সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তের উদ্দেশে রওনা দেওয়া হয় এবং বিকেলে সেটি হস্তান্তর করা হয়।
আরও পড়ুনঃভয়াবহ অভিজ্ঞতা! প্রকাশ্যে অতীতের ট্রমার কথা বললেন অদিতি পোহানকার
বিজলি রায়ের বাড়ি ভারতের বিহারের মোজাফফরপুর জেলার মিনাপুর থানার চক জামাল গ্রামে। কিন্তু নথিপত্রে গ্রামের নাম ভুল থাকায় তাঁর পরিবারের সন্ধান পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। সাংবাদিক শামসুল হুদার অক্লান্ত প্রচেষ্টায় তাঁর গ্রামের সঠিক নাম ও পরিবারের সন্ধান মেলে। গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিজলির পরিবারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা হয় এবং ২৯ ডিসেম্বর তাঁর যাবতীয় তথ্য ভারতীয় দূতাবাসে পাঠানো হয়।
বিজলি রায়ের ভাই বদ্রি রায় মাঝেমধ্যেই ফোন করে খোঁজ নিতেন। কিন্তু সরাসরি কথা বলার অনুমতি না থাকায় শুধু ছবি দেখেই বিজলি রায়কে চিনতে হয়েছিল তাঁকে। পরে কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, বিজলি রায় অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন।
সাংবাদিক শামসুল হুদা মরদেহ ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য দূতাবাস ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের সঙ্গে সমন্বয় করতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভারতীয় দূতাবাস বিজলি রায়ের মরদেহ দেশে ফেরানোর অনুমতি দেয়।
দুই মাস পর হলেও বিজলি রায় ফিরে গেলেন নিজের দেশে, নিজের পরিবারের কাছে—যদিও প্রাণহীন অবস্থায়।
