বিশ্বের খবর
দীর্ঘ ৭ বছর পর কিমের দেশে জিনপিং! ওয়াশিংটনের অস্বস্তি বাড়িয়ে পিয়ংইয়ংয়ে চিনা প্রেসিডেন্ট
ডিজিটাল ডেস্কঃ দীর্ঘ সাত বছরের বিরতির পর আবারও উত্তর কোরিয়া (North Korea) সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (Xi Jinping)। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম (State Media) জানিয়েছে, আগামী ৮ ও ৯ জুন তিনি কিম জং উনের (Kim Jong Un) আমন্ত্রণে পিয়ংইয়ং সফর করবেন। এই সফরকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। চীন ও উত্তর কোরিয়ার (China–North Korea) সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ হলেও শীর্ষ নেতৃত্বের এই ধরনের সফর বিরল। শি জিনপিং সর্বশেষ ২০১৯ সালে পিয়ংইয়ং সফর করেছিলেন। দীর্ঘ বিরতির পর তাঁর এই সফরকে কৌশলগত সম্পর্ক পুনর্গঠনের (Strategic Relations) গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়া সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার (Russia) সঙ্গে সম্পর্ক বাড়িয়ে ইউক্রেন যুদ্ধ (Ukraine War)-এ সমর্থন জোগানোর চেষ্টা করেছে। একইসঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি (Nuclear Programme) আরও জোরদার করছে পিয়ংইয়ং। এই পরিস্থিতিতে বেইজিং আবারও কিমের ওপর প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। চীনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই সফরের লক্ষ্য দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক (Bilateral Relations) আরও শক্তিশালী করা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। বিশেষজ্ঞদের মতে, শি জিনপিং এই সফরের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র (United States)-কে কৌশলগত বার্তা দিতে চাইছেন।
উত্তর কোরিয়া সম্প্রতি একটি নতুন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র (Uranium Enrichment Plant) উন্মোচন করেছে এবং পারমাণবিক শক্তি আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে জাতিসংঘের (United Nations) নিষেধাজ্ঞার চাপ আরও বাড়ছে দেশটির ওপর। চীন দীর্ঘদিন ধরেই উত্তর কোরিয়ার প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার (Major Trading Partner) ও সহায়তাকারী দেশ। একইসঙ্গে রাশিয়া ও চীনের ঘনিষ্ঠতা পশ্চিমা বিশ্বে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শি জিনপিংয়ের এই সফর শুধু কূটনৈতিক নয়, বরং এশিয়ার ক্ষমতার ভারসাম্যে (Power Balance in Asia) বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে। বিশেষ করে ইরান (Iran) ও ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
