টাকার শহর ছেড়ে মমতার দেশে! সন্তানদের ‘মানুষ’ করতে ভারতে আশ্রয় নিলেন আমেরিকান মা
Connect with us

দেশের খবর

টাকার শহর ছেড়ে মমতার দেশে! সন্তানদের ‘মানুষ’ করতে ভারতে আশ্রয় নিলেন আমেরিকান মা

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ ভারতের মাটি আবার প্রমাণ করল—শুধু আধ্যাত্মিকতাই নয়, এই দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ ‘সম্পর্ক’। সম্পর্কের উষ্ণতায় মুগ্ধ হয়ে এবার এক মার্কিন মহিলা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাঁর তিন সন্তানকে ভারতের বুকেই বড় করবেন। তিনি কার্স্টেন ফিশার—যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম হলেও গত চার বছর ধরে বাস করছেন ভারতের রাজধানী দিল্লিতে। সম্প্রতি একটি ভাইরাল ভিডিওতে তিনি জানালেন, কেন তিনি ভারতকে বেছে নিয়েছেন সন্তানদের বেড়ে ওঠার ঠিকানা হিসেবে।

ভারতের সম্পর্কজাল ও সামাজিক মমতা টেনেছে তাঁকে। কার্স্টেন বলেন, “ভারতীয় পরিবারগুলোর মধ্যে যে আন্তরিকতা এবং সম্পর্কের গভীরতা রয়েছে, সেটা অভূতপূর্ব। এখানকার মানুষজন একে অপরকে সাহায্য করে, পাশে থাকে, যা একজন শিশুর বেড়ে ওঠার পক্ষে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি মনে করেন, আমেরিকান সমাজে আত্মকেন্দ্রিকতা বেশি, যেখানে ‘আমি’ আগে। কিন্তু ভারত শিখিয়েছে ‘আমরা’ বলতে। কার্স্টেনের মতে, ভারতে থেকে তার সন্তানরা শুধু বড়ই হচ্ছে না, মানুষ হিসেবেও সমৃদ্ধ হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ যুদ্ধ জিতলেও হার মেনেছেন ভালোবাসায়!বক্সারের সঙ্গে পরকীয়া,স্বামীর থেকে দূরে মেরি কম

সম্পদের চেয়ে কৃতজ্ঞতা বড় শিক্ষা। ভারতের বৈচিত্র্যপূর্ণ সামাজিক বাস্তবতা—দারিদ্র্য আর সম্পদের সহাবস্থান—কার্স্টেনের মনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। তাঁর মতে, এ দেশের বাস্তবতা সন্তানদের শেখায় কৃতজ্ঞতা, সহানুভূতি, এবং সহজভাবে জীবনকে গ্রহণ করতে।                               তিনি বলেন, “এই দেশে থেকে তারা বুঝতে শিখছে—সবকিছু থাকা মানেই সুখ নয়, বরং সম্পর্ক, সম্মান আর সহানুভূতি থেকেই আসে জীবনের মানে।”

Advertisement
ads

কার্স্টেন অকপটে স্বীকার করেছেন, আমেরিকায় জীবনযাত্রা হয়তো কিছুটা আরামদায়ক, কিন্তু ভারতে তিনি খুঁজে পেয়েছেন হৃদয়ের শান্তি ও আন্তরিক বন্ধন। “আমার সন্তানদের এমন একটা পরিবেশে বড় করতে চাই, যেখানে মানুষকে ভালোবাসতে শেখানো হয়, সংস্কৃতির প্রতি সম্মান তৈরি হয়। ভারত সেই জায়গা।”

কার্স্টেনের মতে, ভারত একটি জীবন্ত পাঠশালা, যেখানে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা মানুষের সঙ্গে মিশে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়। তাঁর সন্তানরা এখানে বহু সংস্কৃতির মধ্যে বেড়ে উঠছে—এটাই ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে বড় প্রস্তুতি। “ভারতে এসে আমি শুধু দেশের মাটিতেই নই, মানুষের হৃদয়েও ঠাঁই পেয়েছি,” — বলেন কার্স্টেন। এটাই হয়তো ভারতের আসল ম্যাজিক—যে মাটিতে পা দিলে ‘বিদেশি’ শব্দটা ধুয়ে যায় আন্তরিকতার স্রোতে।