বাংলাদেশে হিন্দু নেতার খুন: অপহরণের পর পিটিয়ে হত্যা, বাড়ছে সংখ্যালঘুদের মধ্যে আতঙ্ক
Connect with us

রাজনীতি

বাংলাদেশে হিন্দু নেতার খুন: অপহরণের পর পিটিয়ে হত্যা, বাড়ছে সংখ্যালঘুদের মধ্যে আতঙ্ক

Dipa Chakraborty

Published

on

দিজিটাল ডেস্কঃ নিশংস হত্যায় কেঁপে উঠল বাংলাদেশ — দিনাজপুরে পিটিয়ে খুন হিন্দু সমাজের এক নেতা। পরিবারের অভিযোগ, বাড়ি থেকে অপহরণ করে তাঁকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। পরে অচৈতন্য অবস্থায় ফেলে যাওয়া হয় বাড়ির সামনে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠছে — সংখ্যালঘু সুরক্ষার আশ্বাসের আড়ালে কি তবে আরও বিপন্ন ‘নতুন’ বাংলাদেশ?

হিন্দু নেতা খুনে ফের তীব্র আতঙ্ক, সরব পরিবার-সমাজঃ 

মৃত ব্যক্তির নাম ভবেশচন্দ্র রায়। তিনি দিনাজপুর জেলার বাসুদেবপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের বিরাল শাখার ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে এক অচেনা ফোন আসে ভবেশবাবুর কাছে— ফোনের ওপারে থাকা ব্যক্তি জানতে চায়, তিনি বাড়িতে আছেন কি না। পরিবারের দাবি, এর আধ ঘণ্টার মধ্যেই দুটি মোটরবাইকে চারজন দুষ্কৃতী এসে তাঁকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। এরপর নরাবাড়ি গ্রামে নিয়ে গিয়ে তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, ভবেশবাবুকে অচৈতন্য অবস্থায় বাড়ির সামনে ফেলে রেখে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। তড়িঘড়ি তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনার জেরে এলাকা জুড়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে।

Advertisement
ads

আরও পড়ুনঃ নারী বিশ্বকাপে উঠল পাকিস্তান, ভারতের মাটিতে খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা

প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া ও তদন্তঃ 

বিরাল থানার ওসি আবদুস সবুর জানান, ‘‘অভিযোগ পাওয়ার পরই আমরা তদন্ত শুরু করেছি। অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। খুব শিগগিরই তাদের গ্রেফতার করা হবে।’’

কিন্তু এই আশ্বাসে আশ্বস্ত নন সংখ্যালঘু সমাজের মানুষ। তাঁদের বক্তব্য, “এই আশ্বাস আমরা আগেও অনেকবার শুনেছি। কিন্তু ঘটনা ঘটার পর প্রশাসন যদি সক্রিয় হয়, তাহলে ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়।”

Advertisement
ads

সংখ্যালঘুদের উপর লাগাতার নিপীড়নের অভিযোগঃ 

এই হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটে গভীর উদ্বেগের। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর আক্রমণ বেড়েছে বলে একাধিক সংগঠনের অভিযোগ। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সময়কালে খুন হয়েছেন অন্তত ৩২ জন হিন্দু, ধর্ষণ বা গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৩ জন সংখ্যালঘু মহিলা। ধ্বংস করা হয়েছে ১৩৩টি মন্দির। নতুন করে সেই সংখ্যা আরও বেড়েছে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইসকনের সন্ন্যাসী চিন্ময় প্রভু এখনও জেলবন্দি। ভাঙচুর চলেছে একের পর এক মন্দিরে। এ অবস্থায় ভবেশচন্দ্র রায়ের মৃত্যুকে ঘিরে নতুন করে ক্ষোভ ছড়িয়েছে বাংলাদেশের হিন্দু সমাজে। সামাজিক মাধ্যমে চলছে প্রতিবাদ।

প্রশ্নের মুখে নতুন বাংলাদেশঃ

Advertisement
ads

এই ঘটনার জেরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে আন্তর্জাতিক মহলেও। ভারতের একাধিক মহল থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে— সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে মোহাম্মদ ইউনুসের সরকারের আশ্বাস কি শুধুই কাগুজে? বাংলাদেশের ‘নতুন পথ’ কি আদৌ সংখ্যালঘুদের জন্য নিরাপদ?

নিপীড়নের এই ধারাবাহিকতায় উদ্বেগ আরও বাড়ছে। হিন্দু সমাজের বহু মানুষ দেশান্তরের কথা ভাবছেন বলে স্থানীয় সূত্রের খবর। এখনও পর্যন্ত সরকারের তরফে কোনও উচ্চপর্যায়ের বিবৃতি না আসায়, আশঙ্কা আরও গভীর হচ্ছে — আদৌ কি এই ঘটনায় প্রকৃত বিচার মিলবে? নাকি ফের আড়ালে থেকে যাবে অপরাধীরা?

Continue Reading
Advertisement