রাজনীতি
বিজেপির প্রতিষ্ঠাদিবস ও রামনবমী একসঙ্গে, বাড়ছে উদযাপনের গুরুত্ব
ডিজিটাল ডেস্কঃ আগামী ৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হতে চলেছে রামনবমী, যা রাজ্যের পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনের আগে শেষ বড় ধর্মীয় উৎসব। বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এবছর রামনবমী এবং বিজেপির প্রতিষ্ঠাদিবস একই দিনে পড়েছে। ফলে, এবারের রামনবমী উদযাপনকে অতীতের তুলনায় আরও ব্যাপক এবং চমকপ্রদ করে তোলার পরিকল্পনা চলছে।
এবারের আয়োজনের বিশেষত্ব হলো, সঙ্ঘ পরিবার সরাসরি কোনো ব্যানারে শোভাযাত্রা কিংবা অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতার আয়োজন করছে না। তবে, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, বজরং দল, হিন্দু জাগরণ মঞ্চ-সহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন ও বিজেপির কর্মীরা উদযাপনের অংশ হচ্ছেন। কিন্তু কোথাও আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপি বা সঙ্ঘের নাম ব্যবহৃত হচ্ছে না, বরং আয়োজক হিসেবে ‘রামনবমী উদযাপন সমিতি’ কিংবা ‘জয় শ্রীরাম কমিটি’র মতো নিরপেক্ষ নাম ব্যবহার করা হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য হলো, ২০২৫ সালের রামনবমীকে আরও বৃহৎ সামাজিক উৎসবের রূপ দেওয়া, যাতে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক পরিচয় এতে প্রাধান্য না পায়।
আরও পড়ুনঃ নভোচারী সুনীতা উইলিয়ামসের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন, উচ্ছ্বাসে পরিবার ও ভারত
তবে, আয়োজনের ধরন নিয়ে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। কেউ চাইছেন ঐতিহ্যগত উপায়ে খোল-করতাল, ঢাক-ঢোল, কাঁসর সহযোগে সংকীর্তনের মাধ্যমে রামের জন্মোৎসব পালন হোক। অন্যদিকে, অনেকে চাইছেন আধুনিকতার ছোঁয়া—বিপুল আকৃতির ডিজে বক্সে র্যাপ স্টাইলের ‘জয় শ্রীরাম’ গান এবং চোখধাঁধানো এলইডি আলোকসজ্জায় রামের মূর্তি স্থাপন।
এই মতপার্থক্য আয়োজনের বিভিন্ন স্তরে প্রভাব ফেলেছে। কোথাও প্রবীণরা চাইছেন শাস্ত্রীয় রীতিতে অনুষ্ঠান হোক, আবার তরুণদের একাংশ চাইছেন আরও আকর্ষণীয়, উচ্চশব্দের, প্রযুক্তিনির্ভর আয়োজন। ফলে, আয়োজকদের একাংশ দ্বিধাবিভক্ত।
যদিও উৎসবকে সর্বজনীন ও সামাজিক রূপ দিতে আয়োজকরা সচেষ্ট, তবে এই মতবিরোধ শেষ পর্যন্ত কেমন প্রভাব ফেলবে, তা দেখার বিষয়। তবে, একথা নিশ্চিত যে এবারের রামনবমী শুধুমাত্র ধর্মীয় উদযাপন নয়, বরং সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও এক গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট হয়ে উঠতে চলেছে।
