রাজনীতি
১০টি ঘরে মজুত ত্রাণের ত্রিপল-শাড়ি! গরিবের ত্রাণ চুরির দায়ে গভীর রাতে গ্রেফতার তৃণমূল পুরপ্রধান
ডিজিটাল ডেস্কঃ পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালের পর এবার নদীয়ার নবদ্বীপ। দুঃস্থ ও সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ হওয়া সরকারি ত্রাণসামগ্রী (Relief Materials) বেআইনিভাবে মজুত করে রাখার অভিযোগে শনিবার ভোররাতে গ্রেফতার (Arrest) হলেন নবদ্বীপ পুরসভার তৃণমূল চেয়ারম্যান (Municipal Chairman) বিমানকৃষ্ণ সাহা। নদীয়া জেলার পুলিশ সুপার (Superintendent of Police) ওয়াই রঘুবংশী আনুষ্ঠানিকভাবে এই মেগা গ্রেফতারির খবর নিশ্চিত করেছেন। ধৃত পুরপ্রধানকে কৃষ্ণনগর জেলা দায়রা আদালতে পাঠানো হচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ নবদ্বীপের বরালঘাট স্পোর্টিং ক্লাবে আকস্মিক অভিযান (Raid) চালায় পুলিশ ও জেলা প্রশাসন। পুরপ্রধানের ফ্ল্যাটের ঠিক পাশেই অবস্থিত এই ক্লাবের প্রায় ১০টি ঘরে তল্লাশি (Search) চালিয়ে চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায় তদন্তকারীদের। সেখান থেকে উদ্ধার হয় হাজার হাজার সরকারি ত্রাণের ত্রিপল, কম্বল এবং তন্তুজের শাড়ি। অভিযোগ, প্রাকৃতিক বিপর্যয় (Natural Disaster) বা গরিব মানুষের মধ্যে বিতরণ না করে এই বিপুল সামগ্রী দীর্ঘদিন ধরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
এই খবর রাষ্ট্র হতেই বরালঘাট এলাকায় কাতারে কাতারে মানুষ ও বিজেপি (BJP) কর্মী-সমর্থকেরা ভিড় জমিয়ে বিক্ষোভ (Protest) দেখাতে শুরু করেন। পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠলে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নবদ্বীপ থানার বিশাল পুলিশবাহিনী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Forces)। শনিবার ভোর ৩টা ৪০ মিনিট নাগাদ বিমানকৃষ্ণ সাহাকে তাঁর বাড়ি থেকে বের করার সময় চরম জনরোষের সৃষ্টি হয়। উত্তেজিত জনতা তাঁকে লক্ষ্য করে ‘চোর-চোর’ স্লোগান দেয় এবং জুতো ও জলের বোতল ছুঁড়ে মারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মৃদু লাঠিচার্জ (Lathi-charge) করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে।
যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে ধৃত পুরপ্রধান দাবি করেছেন, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের (Interrogation) জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতি (Corruption) হয়নি। তবে ক্লাবে কীভাবে এই সরকারি সামগ্রী এল, তার কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি তিনি। এই ঘটনায় জোড়া পুর-সংকটে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে।


