স্কুলপড়ুয়ার আত্মঘাতী সিদ্ধান্তে উত্তপ্ত এলাকা, অভিযুক্ত সিভিক স্বেচ্ছাসেবক পলাতক
Connect with us

আত্মহত্যা

স্কুলপড়ুয়ার আত্মঘাতী সিদ্ধান্তে উত্তপ্ত এলাকা, অভিযুক্ত সিভিক স্বেচ্ছাসেবক পলাতক

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ একটি প্যাকেট চিপস নেওয়ার জেরে চুরির অভিযোগ, জনসমক্ষে অপমান—এই মানসিক যন্ত্রণাই শেষমেশ মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিল সপ্তম শ্রেণির ছাত্র কৃষ্ণেন্দু দাসকে (Krishnendu Das)। পূর্ব মেদিনীপুরের গোসাইবেড় (Gosaibera) গ্রামে এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পরে উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা অঞ্চল। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, অপমান সইতে না পেরে বিষপান করে আত্মহত্যা করে ওই কিশোর।

ঘটনার সূত্রপাত রবিবার দুপুরে। কৃষ্ণেন্দু স্থানীয় সিভিক ভলান্টিয়ার শুভঙ্কর দীক্ষিতের (Shubhankar Dikshit) দোকানে চিপস কিনতে গিয়েছিল। দোকানে কেউ না থাকায় বাইরে রাখা একটি প্যাকেট নিয়ে চলে আসে সে। পরে শুভঙ্কর তাকে সাইকেলে যেতে দেখে পিছু ধাওয়া করেন এবং জনসমক্ষে ‘চোর’ আখ্যা দিয়ে হেনস্থা করেন বলে অভিযোগ। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বাজারে কান ধরিয়ে ওঠবোস করানো হয় কৃষ্ণেন্দুকে, এমনকি তাকে মারধরও করা হয়।

আরও পড়ুনঃ ভুয়ো অফিসার সেজে বিয়ে ও প্রতারণা! রায়গঞ্জে পুলিশের জালে হৃদয় বসাক

এই অপমানে চরম মানসিক আঘাত পেয়ে বাড়ি ফিরে কীটনাশক খায় কৃষ্ণেন্দু। তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয়দের ক্ষোভ ফেটে পড়ে। সোমবার সন্ধ্যায় দেহ নিয়ে এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি, পরে পুলিশের লাঠিচার্জে আহত হন কয়েকজন। আটক করা হয় পাঁচ জন গ্রামবাসীকে।

Advertisement
ads

ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা শুভঙ্কর দীক্ষিত এই ঘটনার পর থেকেই পলাতক। যদিও তার স্ত্রী নিশা দীক্ষিত (Nisha Dikshit) দাবি করেছেন, তাঁর স্বামীকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হচ্ছে। তিনি বলেন, “বাচ্চাটা দোকান থেকে সামনের প্যাকেটটা নিয়েছিল, শুভঙ্কর দেখেই তাকে বকাবকি করে ছেড়ে দেয়। কোনও হেনস্থা করা হয়নি।”

তবে এমন দাবির মাঝেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে কৃষ্ণেন্দুর লেখা একটি সুইসাইড নোট, যেখানে সে লিখেছে—“আমি চুরি করিনি।”

স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, সরকারি দায়িত্বে থাকা কেউ যদি শিশুদের সঙ্গে এমন আচরণ করেন, তবে সমাজে নিরাপত্তা কোথায়?

প্রসঙ্গত, শুভঙ্কর ২০১৩ সাল থেকে সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে কর্মরত। তিনি ও তাঁর দাদা একটি খাবারের দোকান চালান। সেখান থেকেই চিপস নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এত বড় দুর্ঘটনা ঘটে যায় বলে স্থানীয়দের বক্তব্য।

Advertisement
ads

এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। কেন অভিযুক্ত এখনও অধরা? কেন শিশুর মৃত্যুর তদন্তে দ্রুত পদক্ষেপ করা হয়নি? পুলিশ জানিয়েছে, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে কৃষ্ণেন্দুর মৃত্যু যে শুধু একটি জীবনহানিই নয়, তা নয়—এটি সমাজের মানবিক মূল্যবোধের ওপরও এক বড় প্রশ্নচিহ্ন ছুঁড়ে দিয়েছে।