বাংলাদেশে রবীন্দ্রনাথের বাড়িতে হামলা, ইউনুস সরকারের শাসনে ঐতিহ্য কি আজ নিরাপদ?
Connect with us

বাংলাদেশ

বাংলাদেশে রবীন্দ্রনাথের বাড়িতে হামলা, ইউনুস সরকারের শাসনে ঐতিহ্য কি আজ নিরাপদ?

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ বাংলাদেশের সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক পরিকাঠামো কি ধ্বংসের মুখে? প্রশ্ন উঠছে। সাম্প্রতিক ঘটনাবলী দেখে অনেকেই বলছেন—ইউনুস সরকারের (Yunus Government) শাসনকালে ওপার বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, এমনকি নিজেদের গর্বের প্রতিও যেন কোনও দায়বদ্ধতা নেই। ও দেশে যখন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Rabindranath Tagore) ও কাজী নজরুল ইসলামের (Kazi Nazrul Islam) মতো বিশ্ববরেণ্য কবিরা অবমাননার শিকার হন, তখন বুঝতে বাকি থাকে না—বাংলাদেশের ঐতিহ্য আজ কতটা নিরাপত্তাহীন।

মন্দির-গির্জার (Temple-Church) উপর হামলা তো নতুন নয়, এবার বাংলাদেশে রবীন্দ্রনাথের পৈতৃক ভিটে ‘কাছারিবাড়ি’ (Kacharibari) পর্যন্ত রেহাই পেল না। ইউনুস সরকারের আমলে এই বর্বরতা যেন এক নিয়মে পরিণত হয়েছে। শাহজাদপুরে বিশ্বকবির স্মৃতিবিজড়িত বাড়িতে স্থানীয় জনতার হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে দুই বাংলায়। অথচ এমন লজ্জাজনক ঘটনার পরও বাংলাদেশের শীর্ষ মহল অদ্ভুত নীরব। সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত দৃঢ় কোনও পদক্ষেপ বা ন্যূনতম স্পষ্ট বার্তাও পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশের সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর (Shahzadpur) উপজেলার এই ‘কাছারিবাড়ি’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যসাধনার অন্যতম স্মৃতিবাহী স্থান। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ সেখানে ভিড় জমান, যা ইন্দো-ইউরোপীয় (Indo-European) স্থাপত্যে গড়ে ওঠা বাংলাদেশের গর্বের অন্যতম নিদর্শন। কিন্তু প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং পর্যটন ব্যবস্থাপনার চরম অব্যবস্থার কারণে এই ঐতিহাসিক স্থান আজ নিরাপত্তাহীন।

গত ৮ই জুন এক পর্যটক পরিবারের সঙ্গে পার্কিং ফি (Parking Fee) সংক্রান্ত তুচ্ছ ঘটনা থেকে যে বড়সড় অশান্তির সূত্রপাত হয়। সেদিন এক  কর্মীর সঙ্গে ওই পরিবারের বচসা থেকে হাতাহাতি হয়। অভিযোগ, দর্শনার্থীদের আটকে রেখে মারধরও করা হয়।

Advertisement
ads

এরপরই শাহজাদপুর প্রেস ক্লাবের (Shahzadpur Press Club) সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন (Human Chain) করে ক্ষুব্ধ জনতা। পরিস্থিতি ক্রমশ হাতের বাইরে চলে যায়। উত্তেজিত জনতা কাছারিবাড়িতে ঢুকে পড়ে, চালায় ব্যাপক ভাঙচুর। কাস্টডিয়ানের (Custodian) অফিস, অডিটোরিয়াম, মূল্যবান নিদর্শন—কিছুই রক্ষা পায়নি। অথচ এমন ভয়াবহ হামলার সময় প্রশাসন কার্যত অদৃশ্য। পুলিশের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে।

আরও পড়ুনঃ তাপপ্রবাহে রাজ্যে ফের বন্ধ স্কুল, শুক্র ও শনিবার ছুটি ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর

ঘটনার পর বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব (Archaeology) বিভাগ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিলেও, অনেকের আশঙ্কা—এই তদন্তও আদতে লোক দেখানো প্রক্রিয়া হয়ে থাকবে। আপাতত কাছারিবাড়ি দর্শনার্থীদের জন্য অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো একজন মহামানব, যাঁর সাহিত্য, সঙ্গীত, দর্শন দুই দেশের সাংস্কৃতিক শিকড়ে মিশে রয়েছে, তাঁর স্মৃতিবিজড়িত স্থানে এমন বর্বর হামলা যে দেশের ঐতিহ্যকে কতটা অপমান করে, তা বোঝার মতো মন ও দায়িত্ববোধ ইউনুস সরকারের প্রশাসনের আছে কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন।

Advertisement
ads

বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, বাংলাদেশে এখন সংস্কৃতির গুরুত্ব প্রায় তলানিতে। ঐতিহ্য রক্ষার দায় যেন কারও নেই। প্রশাসনের ব্যর্থতা, সরকারের নিস্পৃহতা এবং বুদ্ধিজীবী মহলের নীরবতা এই ঘটনাকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। দুই বাংলার মানুষের মনের ভিতরে এই প্রশ্ন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে—ইউনুসের বাংলাদেশ কি আজ ঐতিহ্য ধ্বংসের পথে? এই নীরবতার দায় কে নেবে?